চালু করতে না পেরে যন্ত্রপাতি রেখে পালিয়েছে সরবরাহকারী

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৫ এএম

আড়াই শ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে কোটি টাকা মূল্যের ৫০০এমএ এক্স-রে মেশিন বসানোর আড়াই বছর পরও চালু হয়নি। সরবরাহকারীদের চালু করতে না পেরে মেশিনটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে হাজারও রোগী।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লা জানান, কর্র্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি থেকে ৫০০এমএ এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করে; যা হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. সামছুল করিম গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বাক্সবন্দি অবস্থায় বুঝে নেন। কিন্তু বুঝে নেওয়ার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মেশিনটি বসিয়ে চালু করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা চালু করতে না পেরে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এনামুল করিম জানান, মেশিনটি চালু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে আসা রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তা ছাড়া কোটি টাকার মেশিনটি সরবরাহ নিয়েও জনগণের কোনো কাজে আসেনি।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ আহমদ জানান, এ ব্যাপারে সরবরাহকারী কর্র্তৃপক্ষ ও ডিজি অফিসেও বহু লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

জেলা স্বাচিপ সেক্রেটারি ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, এ হাসপাতালে শুধু নোয়াখালী নয়, লক্ষ্মীপুর, রামগতি থেকেও শত শত রোগী আসে। এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকায় এসব রোগী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে অকেজো মেশিন সরবরাহ করে সরকারের কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ হাসপাতালের কার্যক্ষমতা ২৫০ শয্যা হলেও গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকে এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে। এই রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে এক্স-রে করাতে গিয়ে অধিক টাকা ব্যয় ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুল বলেন, সরবরাহকারীরা ‘মাফিয়া চক্র।’ তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় কয়েকবার আলোচনা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত