মেধাবৃত্তি কবে পাবে ৩২৭ শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৮ এএম

নতুন নিয়ম এবং কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অর্থ সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস পরও মেধাবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে পারেননি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এর আগে প্রতি বছর মেধাবৃত্তির অর্থ জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাড় করা হতো। তবে এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে মেধাবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এতে করে চলতি অর্থবছরের জুন-জুলাই মাসের মধ্যে বৃত্তির টাকা হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ অর্থ তুলতে না পারায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অ্যাকাডেমিক শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের মোট ৩২৭ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তির টাকা পাবেন। এ হিসাবে সর্বমোট ১৮ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা শিক্ষার্থীদের দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মেধাবৃত্তির অর্থ জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাড় করা হলেও চলতি বছর এই অর্থ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তোলনের নতুন নিয়ম করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মের পরিবর্তন এবং শিক্ষা বোর্ডের অর্থ সংকটের কারণে তিন মাস পার হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা যায়নি মেধাবৃত্তির অর্থ। এ পরিস্থিতিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থ দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নতুন নিয়ম বুঝতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে দাবি করে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সঠিক সময়ে অর্থ আসতে দেরি হওয়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অর্থ কম আসায় আমরা অর্থ বিতরণ করতে পারছি না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির টাকার পরিমাণ ১২ কোটি ৫০ লাখ। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই অতিরিক্ত অর্থের সংকটের জন্যই বৃত্তির টাকা বিতরণ করতে আমাদের কিছুটা সময় বেশি লাগছে।’

এই জটিলতা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস পরও মেধাবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত এমন অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এদেরই একজন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর জুন মাসে আমরা বৃত্তির টাকা পেয়ে আসছি। কিন্তু এবার বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করতে গেলে প্রতিবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আমাদের নতুন সময়সীমা দিচ্ছেন। আমরা এবার আদৌ টাকা পাব কি-না এ নিয়ে সন্দিহান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বৃত্তির টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন ফি দিতাম। সামনে আমার পরীক্ষা। কিন্তু এখনো ফরম ফিলাপ করতে পারিনি।’

শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির টাকা দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে অর্থ পেয়ে আসছিলাম। কিন্তু এবার কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আমাদের বৃত্তির অর্থ দেবে বলে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নিয়মিত শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করছি। তারা আমাদের অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃত্তির অর্থ দেবে বলে জানিয়েছে। টাকা পেলেই আমরা শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ দিয়ে দেব।’

মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চাপে অস্বস্তিতে আছেন বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত