ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ ভর্তুকি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৬ পিএম

দেশে উৎপাদিত কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ হারে ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধা চলতি অর্থবছরে জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিট জাহাজিকৃত মূল্যের ওপর উৎপাদনকারী-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি পাবে। এসব পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি ভর্তুকি ও শুল্ক বন্ড সুবিধা একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে না। আর বিশেষায়িত অঞ্চলে (ইপিজেড ও ইজেড) অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে এ ভর্তুকি সুবিধা পাবে না। বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে ছাড়কৃত তহবিল থেকে ভর্তুকির এ অর্থ প্রদান করা হবে।

রপ্তানিকৃত পণ্যের হ্যান্ডেলিং, মানোন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং ফ্রেইট চার্জ পরিশোধজনিত ব্যয়ের বিপরীতে বিশ^ বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধি অনুযায়ী আলোচ্য ভর্তুকি দেওয়া হবে বলে ভর্তুকির আবেদনপত্র দাখিলের শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রপ্তানি ঋণপত্রের আওতায় রপ্তানি পরবর্তী পর্যায়ে প্রণীত দলিলাদি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রত্যাবাসিত আয়ের বিপরীতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখায় ভর্তুকির আবেদন দাখিল করা যাবে। এজন্য টিটির মাধ্যমে অগ্রিম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসনের শর্তযুক্ত রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিলার ব্যাংককে বিদেশি ক্রেতার বিশ^াসযোগ্যতা, সঠিক মূল্য যাচাইসহ অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হতে হবে। সব ক্ষেত্রে ভর্তুকির আবেদনপত্র বিদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাবে রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসনের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় দাখিল করতে হবে।

ভর্তুকি পেতে হলে রপ্তানির সপক্ষে পরিবহন কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত বিল অব লেডিং, কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব এক্সপোর্টসহ প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিল করতে হবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া আলোচ্য পণ্য রপ্তানি হয়েছে কি না তা সরেজমিন যাচাইয়ের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র আবেদন পত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। ভর্তুকি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে রপ্তানি সামঞ্জস্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর অনুমোদিত ডিলার পরিশোধযোগ্য অঙ্ক নিরূপণ করবে। ভর্তুকির আবেদনপত্রে প্রদেয় অর্থের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য বহিঃনিরীক্ষক ফার্মের মাধ্যমে প্রতিটি আবেদন নিরীক্ষা করাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদনের পর রপ্তানি ভর্তুকিবাবদ পরিশোধযোগ্য অর্থের দাবি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

একই রপ্তানির আওতায় একই সুবিধার জন্য একাধিকবার পিআরসি ইস্যু না হওয়ার বিষয়ে অনুমোদিত ব্যাংক শাখা ডিলারকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ভর্তুকি পরিশোধ নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র পরিশোধের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বিধিবহির্ভূত ভর্তুকি পরিশোধ করা হলে পরিশোধকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আদায় করা হবে এবং সংগঠিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত