ঝামেলা এড়াতে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। জনসনের এই নতুন পরিকল্পনা প্রকাশের সিদ্ধান্তকে কৌশল বলছেন বিশ্লেষকরা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, একজন মন্ত্রী নতুন পরিকল্পনার ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেবেন। ব্রেক্সিট নিয়ে কনজারভেটিভ সরকার বেশ চাপে রয়েছে। পদত্যাগের দাবিও উঠেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঘিরে অচলাবস্থা কাটাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে রুল জারি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। স্থগিতাদেশ অকার্যকর হওয়ায় পার্লামেন্টে ফিরতে শুরু করেন ব্রিটিশ এমপিরা। এমনকি তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন বলেন, জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। জনসনের নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা প্রকাশের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কারণ জনসনের পরিকল্পনায় সীমান্তে কাস্টমস সমস্যা নিয়ে যে সমাধান খোঁজা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কোনো কার্যকরী সীমান্ত না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন জনসন। পরিকল্পনা প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রথম সমালোচনা করে ডাবলিন কর্র্তৃপক্ষ।
আইরিশ ব্রডকাস্টার আরটিই প্রথম ওই প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইইউ কর্র্তৃপক্ষ মনে করছে যে, যুক্তরাজ্য ক্রমশ তার প্রতিশ্রæতি থেকে সরে যাচ্ছে হার্ড বর্ডার সমস্যা এড়াতে। এমনকি অবকাঠামোগত ঝুঁকি এড়াতেও চাইছে যুক্তরাজ্য। যদিও প্রধানমন্ত্রী জনসন গতকাল সকালে সাংবাদিকদের সামনে নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় থাকা আইরিশ সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় এড়িয়ে যান। উল্টো তিনি বলেন, আইরিশ সীমান্ত সমস্যা নিরসনে চলতি সপ্তাহেই আলোচনায় বসা হবে, তার আগে কোনো পরিকল্পনা নয়।
ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। তার পদত্যাগের পর কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীন ভোটারদের ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
