ধর্ষণের মামলা করে ‘ধর্ষক’ পরিবারের হুমকিতে দিশেহারা পঞ্চগড় পৌর এলাকার এক কিশোরীর পরিবার। তাদের অভিযোগ, মামলা তুলে নিয়ে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমঝোতার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় পৌর এলাকার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মুসলিম ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকার সুরেন চন্দ্রের ছেলে জগদীশ চন্দ্র রায়কে (২৮) পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। পরদিন কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর থেকে ধর্ষক পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমঝোতা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর এই কাজে ধর্ষক পরিবার বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। কিশোরীর মা বলেন,
‘বারবার তারা টাকা দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করতে চাপ দিচ্ছে। কখনো মোবাইল ফোনে আবার কখনো সরাসরি। আমি তাদের বারবার বলেছি, আমি আমার মেয়ের ধর্ষণের বিচারের জন্য মামলা করেছি। আদালতে যা হবে আমি তাই মেনে নেব। আমি বিচার চাই, টাকা চাই না। তারপরও তারা আমাদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে আমাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।’
ওই কিশোরী বলেন, ‘প্রতিদিনই তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এমনকি সমঝোতায় বসার জন্য বাড়িতে লোক পাঠাচ্ছে। তাদের এমন নির্যাতনে আমরা ঘরে-বাইরে স্বস্তি পাচ্ছি না।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি তদন্তাধীন। খুব শিগগিরই চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এখানে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। যারা ওই কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদের তথ্য দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
