রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় স্বার্থে সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে নৌবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং জেটি, যুদ্ধজাহাজ ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নির্বিঘেœ ও সফলতার সঙ্গে পালন করুন।’
গতকাল বুধবার সকালে খুলনার খালিশপুরে বিএনএস তিতুমীর ঘাঁটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান উপলক্ষে এ ঘাঁটির প্যারেড মাঠের অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী প্রজন্মের নৌবাহিনী সদস্যরা দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তরুণ প্রজন্ম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। বক্তব্যের শুরুতে আবদুল হামিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ নৌবাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএনএস তিতুমীর ঘাঁটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেট (জাতীয় পতাকা) হস্তান্তর করেন। নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম এ ঘাঁটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার (এমপি), নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, শেখ সালাহউদ্দীন জুয়েল (এমপি) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিকেলে সফরসঙ্গী স্ত্রী রাশিদা খানমকে নিয়ে ঢাকা ফেরেন। নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ড. আফরোজা আওরঙ্গজেবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে বিএনএস তিতুমীর ঘাঁটি হেলিপ্যাডে তাদের বিদায় জানান।
