বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের মহড়া কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী ছৌ নৃত্যের কর্মশালা। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল কর্মশালার সমাপনী আয়োজন। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ভারতীয় নৃত্যশিল্পী মধুমিতা পাল। ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ১-৩ অক্টোবর কর্মশালার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশের ১৫ নৃত্যশিল্পী। প্রশিক্ষক মধুমিতা পাল জানান, ‘ভারতবর্ষে পুরুলিয়া, উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ ও ঝাড়খণ্ডর সেরাইকেলা নামে তিন ধরনের ছৌ নৃত্যের প্রচলন রয়েছে। পুরুলিয়ার ছৌ-তে বড় মুখোশ, সেরাইকেলাতে পুতুলের মতো ছোট মুখোশ এবং ময়ূরভঞ্জে মুখে প্রসাধনী বা রূপসজ্জা ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধের সময় অস্ত্র চালনার চর্চা থেকে ছৌ নৃত্যের উদ্ভব হয়েছে। এই নৃত্যের মাধ্যমে সাধারণত পৌরাণিক কাহিনী, ধর্মীয় ও সামাজিক পালা মঞ্চস্থ করা হয়। এর সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ঢোল, নাকাড়া, সানাই, বাঁশি ও ঝাঁঝর ব্যবহার করা হয়।’ এই কর্মশালায় ছৌ নৃত্যের প্রাথমিক ধাপ, পশুপাখির চালচলন ও অঙ্গভঙ্গি শেখানো হয়। এ ছাড়া ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা’ ও ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ’ গান দুটির সঙ্গে কোরিওগ্রাফি তৈরি করা হয়।
স্টুডিও হলে মঞ্চস্থ হলো ‘গহন যাত্রা’
জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় পদাতিক নাট্য সংসদের নাটক ‘গহনযাত্রা’। রুবাইয়াৎ আহমেদের লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। এতে একক অভিনয় করেন শামছি আরা সায়েকা। নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, উগ্রপন্থিরা বিপরীত সব মতবাদ প্রত্যাখ্যান করে শুধু একটি মতবাদকেই প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এজন্য তারা চালায় ধ্বংসলীলা, বইয়ে দেয় রক্তগঙ্গা, হত্যা করে অগণিত মানুষ, ধর্ষিত হয় অসংখ্য নারী। ভিন্ন মতাদর্শের এক ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষদের তারা ধরে নিয়ে বন্দি করে রাখে। বন্দিদশা থেকে পালাতে চায় অনেকে। কিন্তু মারা পড়ে তারা। শুধু একজন বেঁচে যায়। সালমা। কিন্তু বেঁচে গিয়ে ফিরে আসে সালমা। খোলা প্রান্তরে পড়ে থাকা লাশগুলো সমাহিত করতে চায়। এই নাটকের সংগীত পরিকল্পনা করেছেন সাইম রানা। আলোক পরিকল্পনা করেছেন আতিকুল ইসলাম জয়। পোশাক ও রূপসজ্জা পরিকল্পনা করেছেন শামছি আরা সায়েকা।
