ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ঝরবে ১০ কোটি প্রাণ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪৬ এএম

২০২৫ সাল। সন্ত্রাসবাদীরা ভারতের পার্লামেন্টে হামলা করে অধিকাংশ নেতাকে হত্যা করেছে। প্রতিশোধ নিতে নয়াদিল্লি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ট্যাংক পাঠিয়েছে। তাদের হটাতে ইসলামাবাদ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে সেই যুদ্ধ। এদিকে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমে এমন বিপর্যয়কর অবস্থায় চলে গেছে যে, সর্বশেষ তুষার যুগেও যেটি দেখা যায়নি। গত বুধবার সায়েন্স অ্যাডভানসেস সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণাপত্রে এমন কল্পনাচিত্র তৈরি করেছেন রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলান রোবোক ও তার দল।

ওই গবেষণাপত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সত্যিই যদি তেমন কিছু হয় তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কোটি মানুষ মারা পড়বে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কালো ধোঁয়ায় আটকে থাকবে আকাশ। শীতল হবে পৃথিবী, খাবারের অভাবে মরবে আরও মানুষ।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এ গবেষণাটি করা হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে এর আগে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ হলেও তখন তাদের পরমাণু অস্ত্র ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দেশ দুটির হাতে ১৫০টির মতো পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। আর ২০২৫ সাল নাগাদ এগুলোর সংখ্যা বেড়ে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছবে।

গত আগস্টে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন রদ করে ভারত। সেই ঘটনা দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে জাতিসংঘে ঘোষণা দিয়েছেন, এই উত্তেজনা পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।

ইমরান খানের ওই বক্তব্যের পরেই রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি

নতুন এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করল। গবেষকদের ভাষ্য, দুই দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ও শহুরে কেন্দ্র, যেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পাকিস্তানের চেয়ে ভারতে প্রাণহানির ঘটনা দুই থেকে তিনগুণ বেশি হবে। পাকিস্তান ভারতের চেয়ে বেশি অস্ত্র ব্যবহার করবে।

গবেষকরা দেখেছেন, প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণ ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখের টনের মতো কালো কার্বন বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরে ছড়িয়ে দেবে। যা সৌর বিকিরণকে শুষে নেবে। পৃথিবীতে সূর্যের আলো ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে যাবে। ভ‚-তাপমাত্রা কমবে ৩ দশমিক ৬ থেকে ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব দেখা যাবে। পরবর্তী সময়ে ১০ বছর এই প্রভাব থেকে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত