খুলনায় বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৬)। গত বুধবার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলো রূপসার শ্রীফলতলার শরীফুল ইসলাম (২১), আসাদউল্লাহ (২০), কামরুল (১৮), নাঈম (১৮), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের রিয়াজ (১৮) ও সাতক্ষীরার সোহেল (১৮)। খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. নূর আলম সিদ্দিকী জানান, মেয়েটি মোরেলগঞ্জে নানাবাড়িতে থেকে একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। তার মা থাকেন খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছে। মেয়েটি মায়ের কাছে বেড়াতে এসেছিল গত বুধবার। তার বন্ধু মোরেলগঞ্জের নিয়ামুলের সঙ্গে হাদিস পার্কে ঘুরতে যায়। মেয়েটির সঙ্গে তার
আট বছরের এক খালাতো ভাই ছিল।
তিনি বলেন, নিয়ামুল মেয়েটিকে ঘুরতে নেওয়ার কথা বলে রূপসার শ্রীফলতলার একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা বাকিদের মধ্যে দুজন ও নিয়ামুল মেয়েটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। বাকিরা ছোট ছেলেটিকে পাশে ঘুরতে নিয়ে যায়। ঘটনার পর মেয়েটি বাসায় এসে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। তখন তার মা বৃহস্পতিবার রূপসা থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযানে নামে। অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। মূল আসামি নিয়ামুলকে আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় রূপসা থানায় একটি ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মাদারীপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা : মাদারীপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপমান সইতে না পেরে রাতে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের শান্তিনগর এলাকার জলিল চৌকিদারের ছেলে মাদকাসক্ত আমান চৌকিদার (২৪) একই এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন থেকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আমান জোরপূর্বক রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত গ্যারেজে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে মারধর করে। পরে স্কুলছাত্রী বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানায়।
স্কুলছাত্রীর মা বলেন, মাদকাসক্ত আমান আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিষয়টি আমরা গোপন রাখতে চেয়েছিলাম। তারপরও অনেকে এখন বিষয়টি জেনে গেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল ওহাব বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা শোনার পর আমরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে এবং হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে আসেনি। তারা আইনগত সহযোগিতা চাইলে আমরা দিতে প্রস্তুত আছি।
