পেঁয়াজকে ভারতে গরিবের সবজি বলা হয়। কিন্তু বিগত সপ্তাহে এটি রান্নাঘর ছাড়াও পত্রিকার পাতায় উত্তাপ ছড়িয়েছে। দিল্লির মসনদেও নাড়া দিয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপে দাম নাগালে এলেও এখনো রাজনৈতিক অস্বস্তি রয়ে গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দাম বাড়ায় ২০১৩ সালে দিনদুপুরে সড়ক থেকে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ চুরি হয়। পরে সংঘাতে প্রাণ যায়। আর মুদ্রাস্ফীতি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের ক্যারিয়ারই ধ্বংস করে দেয়। সম্ভবত এ অভিজ্ঞতা থেকে বিজেপি সরকার এবার ঝুঁকি নেয়নি। রপ্তানি বন্ধ করে পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ রুপিতে বিক্রি হয়েছে।
তবে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় সর্ববৃহৎ ক্রেতা বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য কূটনীতিতেও টানাপড়েন দেখা দেয়। অথচ আগস্টেও ভারতে পেঁয়াজের কেজি ছিল মাত্র ২৫ রুপি। সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে তা একলাফে ৮০ রুপি হয়। এখন ভারতে পেঁয়াজের দাম কমলেও অনেকে খুশি হতে পারেননি। ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ
কৃষকরা বিক্ষুব্ধ। মহারাষ্ট্রে বিক্ষোভও হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এখানে রাজ্য সরকার নির্বাচন হবে। দাম পড়ে যাওয়ায় মহারাষ্ট্র, দক্ষিণ কর্ণাটক ও পশ্চিম গুজরাটের কৃষকদের আয়ে প্রভাব পড়বে। সংসার চালানোর প্রধান পণ্য পেঁয়াজ তারা এবার অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সেভাবে উৎপাদন করতে পারেননি।
উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে পেঁয়াজ রাজনীতি করে জনপ্রিয়তা ও পরে অনেকে এমপিও হয়ে গেছেন। ফলে যে সবজি প্রত্যেক দিন ঘরে লাগে, সেটির লাগামহীন দাম ভোটে প্রভাব ফেলবে ভেবেই রাজনীতিকরা আগেভাগে পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী বছরের নির্বাচন মাথায় রেখে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভর্তুকিও দিয়েছেন। ইন্দিরা গান্ধীও ক্ষমতায় আসেন পেঁয়াজ রাজনীতি করে। বলা হয়, পেঁয়াজের লাগামহীন দামে তৎকালীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছিল। নীতিমালা বিষয়ক গবেষক মিলিন্ড মুরুগকর বলেন, ‘উত্তর ভারতের ক্রেতারা ফেডারেল সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। পেঁয়াজ সরকারকে চাপে ফেলে দিয়েছে। নিশ্চয় ভোটেও তার প্রভাব পড়বে।’
