স্কুলের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাতে কোচিং

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৫ এএম

মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি আদেশ অমান্য করে রাতের বেলায় ‘বিশেষ’ ক্লাসের নামে চলছে কোচিং। বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টার একটি বিশেষ ক্লাস ও রাতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে চার ঘণ্টার বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য। সরকারি স্কুলের দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে ‘বিশেষ’ এ কোচিং ক্লাস। 

সরেজমিন দেখা যায়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধশতাধিক ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ কোচিং ক্লাস। রাতের কোচিং বাবদ প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর সকালের বিশেষ ক্লাসের জন্য আলাদাভাবে নেওয়া হয় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। জানুয়ারি থেকে শুরু করে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে এ কোচিং বাণিজ্য। পঞ্চম শ্রেণিসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকেও দেখা গেছে বিশেষ ক্লাসে।

বিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন অভিভাবককে সন্ধ্যা থেকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা বলেন, আমরা কী করব! স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক করেছে তাই করাতে হয়। সেই সকালে আসে, বিকেলে একটু বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেই আবার সন্ধ্যায় চলে আসে। আর ক্লাস হয় প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত। বাড়িতে পড়াশোনা করার কোনো সুযোগই পায় না ছেলেমেয়েরা। আর আমরাও সব সময় টেনশনে থাকি রাতে যদি কোনো বিপদ হয়।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, ‘রাতে ক্লাস নিলেও তাদের কাছ থেকে টাকা নিই না। ওদের পড়াশোনা ভালো করার জন্য রাতে ক্লাস নিয়ে থাকি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি রয়েছে।’ রাতে মেয়েদের কোচিং করানো হচ্ছে, তাদের কোনো বিপদ হলে এর দায়ভার কে নেবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দায়ভার আমি নেব।’

এ ব্যাপারে উত্তর ঝিকরহাটি পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফিয়া আক্তার বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ‘আন-অফিসিয়াল’ অনুমতিতে এ ব্যবস্থা নিয়েছি।’ রাতে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের কোনো সমস্যা হলে দায় তিনি নেবেন না সাফ জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কিছু ঘটলে দায় তার পরিবার নেবে।’

সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দাতুল নেছা রূপা বলেন, ‘স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে বলেছি যদি অভিভাবকরা চান তাহলে করাতে পারেন, তবে অবশ্যই স্কুলে নয়। আর আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো অভিভাবক অভিযোগ করেননি।’ তার কাছে ছাত্রীদের রাতে ক্লাসের জন্য যদি কোনো ক্ষতি হয় এর দায়ভার কে নেবে জানতে চাইলে তিনিও পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এটা কে নেবে?’

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানতাম না। যদি এ রকম হয় তাহলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। রাতে ক্লাস নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত