জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এর জন্য দায়ী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পদক্ষেপের দাবিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার প্রতিবাদকারী। ইউরোপের শহরগুলোতে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের ৬০টি শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজক সংগঠন এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন বা বিলুপ্ত বিপ্লবীর।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনকে পরিবেশের জন্য একটি ‘গ্রহণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন।
গতকাল সোমবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরুর আগে মেলবোর্নের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান নেন হাজার হাজার জলবায়ুকর্মী। তারা প্রতীকী নীরব ধ্যানেও বসেন সেখানে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কগুলোতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় সংগঠনটির সদস্য জেন মর্টন বলেন, আমরা পিটিশন দায়ের, লবিং ও পদযাত্রার মাধ্যমে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনেনি। এখন আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তাই আমরা সংগঠিত হয়ে সরকারের কাছে ‘বাস্তুতান্ত্রিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি জলবায়ু অভিঘাত থেকে আমাদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছি।
মেলবোর্নের এক আন্দোলনকর্মী ক্রিস্টিন কান্তি এএফপিকে বলেন, ‘বাস্তুতান্ত্রিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা নিয়ে সরকার আমাদের মিথ্যা বলছে।
নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে সকাল থেকেই অবস্থান নেন এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়নের কয়েক শ কর্মী। তারা অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে একটি আইন প্রণয়নের দাবি জানান। সেখানে ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
একই দাবিতে গত শনিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এবং রবিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভ করেন এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়নের সদস্যরা। এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন নামে পরিবেশবাদী সংগঠনটি ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
