ডাকাতিয়ায় নদীর এবং খাঁচায় চাষ করা মাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত রবিবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আনুমানিক ৫ কোটি টাকার মাছ মরেছে। তাদের ধারণা, পানিতে অ্যামোনিয়া, পিএইচ ও অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে।
চাঁদপুর মৎস্য অফিস জানায়, ডাকাতিয়া নদীতে ২০০২ সাল থেকে খাঁচায় মাছচাষ শুরু হয়। বর্তমানে শহরের নতুন ও পুরানবাজার সেতু থেকে গাছতলা চাঁদপুর সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় আড়াই হাজার ভাসমান খাঁচায় মাছচাষ হচ্ছে। এ কাজে জড়িত আড়াই শতাধিক জেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি তাজুল ইসলাম গাজী বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদীতে আমার আটটি খাঁচা রয়েছে। এসব খাঁচায় তেলাপিয়া, রুই ও কাতল মাছ চাষ করছি। গত কয়েক দিনে হঠাৎ মড়ক দেখা দেওয়ায় সব মাছ মরে ভেসে উঠছে।’ মৎস্য চাষে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সোহেল গাজী বলেন, ‘প্রতি বছরই খাঁচা থেকে স্বল্পসংখক মাছ মারা গেলেও গত রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আড়াই হাজার খাঁচার শত শত মণ মাছ মরে ভেসে উঠছে। দীর্ঘদিন মাছচাষ করলেও এ ধরনের মড়ক দেখিনি। পানি দূষণ নাকি অন্য কারণে মাছগুলো মরে যাচ্ছে, বলতে পারছি না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধারণা করছি পানিতে অ্যামোনিয়া, পিএইচ ও অক্সিজেনের পরিমাণ ক্ষতিকর মাত্রায় রয়েছে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিকদের জানিয়েছি। তারা এসে পানি, মাটি ও মরা মাছ পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিলে আসল ঘটনা জানা যাবে।’ মাছচাষিদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদী তীরে দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকায় সেখানকার কেমিক্যালমিশ্রিত পানির প্রভাবে মাছ মারা যাচ্ছে কি না সেটাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।’
