যুক্তরাজ্য ও ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আজ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা এক বিশেষ সভায় মিলিত হতে যাচ্ছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে এই বিশেষ সভাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণ প্রশ্নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনের পর আগামী ১৯ অক্টোবর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এক অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। বলা হচ্ছে, ওই অধিবেশনই যুক্তরাজ্য ও ইইউর জন্য শেষ সুযোগ কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর। এর মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে চুক্তিহীন অবস্থাতেই ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট হবে।
আর যদি চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ সম্মত হয়, তাহলে পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন চাইবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন। আর সেক্ষেত্রেও যদি আইনপ্রণেতারা অনুমোদন দিতে পিছু হটেন, তবে জনসনের জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা থাকবে। হাউজ অব কমন্সের এমপিরা বাণিজ্যিক চুক্তিতে সম্মত হলে, এর পরদিন পিপলস ভোট ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে। এই ক্যাম্পেইনের অধীনে কয়েক হাজার মানুষকে ওয়েস্টমিনস্টারের সামনে প্রতিবাদ করতে দেখা যেতে পারে। ১৯৩৯ সালের পর থেকে মাত্র চার শনিবার হাউজ অব কমন্সের সদস্যরা সভায় বসেছেন। প্রথম বসেন ১৯৩৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে। আর সর্বশেষ বসেন ১৯৮২ সালের ৩ এপ্রিল ফকল্যান্ড দ্বীপের আগ্রাসনের কারণে।
স্কটিশ বিচারকরা গতকাল বুধবার বলেছেন যে, তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ক্যাম্পেইনারদের চিঠি পাঠানো নিয়ে কোনো বৈধ আদেশ জারি করবেন না। তবে ব্রেক্সিট নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্তকে আটকে দিয়ে দেরি করাবেন বলে জানান। ডাউনিং স্ট্রিটও জানিয়েছে, জনসন আইনের প্রতি সম্মান জানাবেন। কিন্তু লরা কুয়েন্সবার্গ জানান, দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। জনসন নতুন ব্রেক্সিট প্রস্তাবনা দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার কেন্দ্রেই আছে আইরিশ ব্যাকস্টপ সমস্যা। এই সমস্যার কারণেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন টেরিজা মে। তবে যাই হোক, পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুসারে ইইউ বলেছে যে ব্রেক্সিট প্রস্তাবে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। উভয়পক্ষের কাছেই যেন ওই পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হয় সেদিক বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ডেভিড ফ্রস্ট কয়দিনের মধ্যেই ইউরোপিয়ান কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু উভয় পক্ষের সূত্রই বিবিসিকে বলছে, কৌশলগত আলোচনার সময় আর নেই।
