আতঙ্ক-উদ্বেগে ঘর ছাড়ছে মানুষ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪৩ পিএম

কুর্দি অধ্যুষিত সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘শান্তি ফেরানোর’ অজুহাতে শুরু হওয়া তুরস্কের অভিযানে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) ২৩ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শতাধিক সামরিক-বেসামরিক মানুষ। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ওই এলাকার ৬০ হাজারের বেশি অধিবাসী। এ অভিযানের কারণে ওই অঞ্চলের কারাগারে থাকা হাজার হাজার আইএস বন্দি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার তুর্কি সেনারা ওই অঞ্চলে ভারী গোলাবর্ষণসহ বিমান হামলা চালালে ওইসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়েছে, অভিযানে তুরস্কের সীমান্ত থেকে সিরিয়ার প্রায় ৬০ কিলোমিটার ভেতরের দুটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশ্যে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবারের হামলায় হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও বুধবার এসডিএফ দাবি করে, বেসামরিক নাগরিকদের এলাকাগুলোতে জঙ্গিবিমান হামলা চালিয়েছে তুরস্ক। ওইদিন এসডিএফ যুক্তরাষ্ট্র এবং আইএসবিরোধী জোটকে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ঠেকাতে একটি উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা গড়ার অনুরোধও জানায়।

এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত বুধবার দাবি করেন, সিরিয়ার কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়া এবং জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকি দূর করে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থীদের দেশে ফেরানোর জন্য একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠন করা লক্ষ্যেই ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামের এ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তজুড়ে সন্ত্রাসীদের করিডোর রুখে দিয়ে ওই এলাকায় শান্তি ফেরানোই মিশনের লক্ষ্য। এতে সিরিয়ার আঞ্চলিক অখ-তা অটুট থাকার পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত হবে।’

তবে বিশ্বের বেশিরভাগ শক্তিধর দেশই এ অভিযানের বিরোধিতা করেছে। একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এ অভিযানের ফলে সিরিয়ার আট বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দেবে। শুধু তাই নয়, এর কারণে ওই অঞ্চলের কারাগারগুলোতে বন্দি থাকা হাজার হাজার আইএস সদস্যও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তুরস্ককে ওই অঞ্চলের অভিযান চালানোর সুযোগ করে দিতেই সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও বাহ্যিকভাবে তুরস্কের এ অভিযানের বিরোধিতা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেছেন, সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ‘সবুজ সংকেত’ দেয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার মার্কিন সেনাদের বিপদের বাইরে রাখতেই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ অভিযানের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য, ইতালি, রাশিয়া ও ইসরায়েল। দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিযানকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গতকাল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের সঙ্গে এই ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আগামী শনিবার বৈঠকে বসবে আরব লিগের ২২ সদস্য দেশ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত