খুলনার কয়রা উপজেলার বায়লা হারানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। স্কুলে যাওয়া-আসার রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ঘেরের নিচু আইল। প্রায় সময় কাদা-পানি থাকা এ আইল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের পথচলা। অনেকে আবার ভয়ে স্কুলমুখীই হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধান প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, ১৯৭৩ সালে ৫০ শতক জমিতে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ১০৪। দুই বছর আগে সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এখন সেখানে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে তিনটি কক্ষ। শিক্ষক দুজন। বিদ্যালয়ের তিনদিকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাছের ঘের। যার চারপাশে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা ঘেরের মধ্যে নিচু আইল ধরে স্কুল ও মাদ্রাসায় যায়। একদিকে ঘেরের পানি অন্যদিকে বৃষ্টির পানি মিলে অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ের যাতায়াতের সড়কসহ বিদ্যালয় মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি দুপাশে ঘের। মাঝখানে একটি সরু ও নিচু আইল। সেই আইল ধরে হাঁটুপানির মধ্যে দিয়ে একদল খুদে শিক্ষার্থী বাড়ির পথে রওনা হয়েছে। প্যান্ট মুড়িয়ে সবার হাঁটুর ওপরে ওঠানো। বইগুলো একেকজন একেকভাবে ধরে রেখেছে। কেউ মাথার ওপর, কেউবা কাঁধে, আবার অনেকেই বুকের সঙ্গে চেপে ধরেছে। বিদ্যালয়ে মাঠেও জমে আছে পানি।
শিক্ষার্থীরা বলে, ‘এভাবে হাঁটুপানি মাড়িয়ে আর কতদিন স্কুলে যাব। পায়ে ঘা হয়েছে। অথচ আমাদের খবর কেউ রাখেন না।’ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছলিমা ইসলাম বলে, ‘বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যা হয়। স্কুলে আসতে ভালো লাগে না। মাঝেমধ্যে বই-খাতা ও জামা-কাপড় ভিজে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ লুৎফুন নেছা বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে নাতি-নাতনিরা যেতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে।’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমির আলী বলেন, ‘যাতায়াতের সড়কটি কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন। যাতায়াতের পথ অনেক নিচু। তাছাড়া এলাকায় মাটির সংকট থাকায় ইটের বাজেট এলেও সড়কটি করা সম্ভব হয়নি।’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছা. আজিজুন্নাহার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা। বছরের প্রায় বেশিরভাগ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পানি ভেঙে স্কুলে আসতে হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টা জানিয়েছি। কাজ হয়নি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
