হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস রোগ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৭ এএম

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ইনফেকশন যৌনবাহিত ভাইরাল ইনফেকশন, যা মূলত ত্বকের সঙ্গে ত্বকের যোগাযোগের কারণে হয়। বেশির ভাগ সময় যৌনমিলনের কারণে ঘটে। এই ভাইরাস সংক্রমণ হয় যৌনসঙ্গীর থেকে। পুরুষ, মহিলা উভয়কেই সংক্রামিত করে। এই ভাইরাস ছড়ায় খুবই দ্রুত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকে পেছনে ফেলে মুখ ও গলার ক্যানসারের জন্য ভয়াবহ বার্তা বয়ে এনেছে ওরাল সেক্স। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি হলো এই ব্যাধির প্রধান সংক্রামক। এটি যৌনক্রমে সংক্রামিত ব্যক্তির থেকে একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে যায়। এ ক্ষেত্রে, পায়ুপথ, যৌনাঙ্গ, মুখ, মাথা, গলা ইত্যাদি অঙ্গে ক্যানসার হতে পারে। কোনো মহিলার যৌনাঙ্গে এইচপিভি সংক্রামিত হলে তা কখনো জরায়ুর ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

কিছু মানুষের শরীরে এই ভাইরাস থাকলেও সেটার লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। তবে, যৌনমিলনের সময় অজান্তেই তা অপর ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়ে যায়। এই ভাইরাস যখন অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে স্থানান্তরিত হয়, তখন লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এর ওপর ভিত্তি করে, কোনো চিকিৎসক তাদের শরীরে কী ধরনের এইচপিভি স্থানান্তরিত হয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ত্বকে শতাধিক আঁচিল, গুটি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। নিচে এগুলোর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

১. জেনিটাল ওয়ার্টস : বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ, মলদ্বার, যোনিতে হতে পারে। এটি দেখতে অনেকটা ফুলকপি, খসখসে চামড়ার মতো হয়ে থাকে।

২. ফ্ল্যাট ওয়ার্টস : এগুলো সাধারণত মুখ, থুতনিতে। এগুলো সমতল হয়। ৩. ওরোফারিঞ্জিয়াল ওয়ার্টস : এগুলো বিভিন্ন আকারের হয়। মূলত, জিহ্বা এবং টনসিলের মতো মুখের পৃষ্ঠতলে হয়। ৪. সাধারণ ওয়ার্টস : এগুলো মূলত হাত, আঙুলগুলোতে দেখা দেয়। ৫. প্ল্যান্টার ওয়ার্টস : এগুলো সাধারণত শক্ত এবং দানাদার হয়। পায়ের গোড়ালিতে দেখা যায়।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণ

১. সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে এটি অপর ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে।

২. এটি শরীরের কোনো কাটা, ঘা বা ক্ষত থাকলে তার মাধ্যমে অতি সহজে প্রবেশ করে।

৩. যদি কোনো গর্ভবতী মহিলা এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়, তবে সেটি তার সন্তানের দেহেও স্থানান্তরিত হতে পারে।

৫. অন্য ব্যক্তির শরীরে থাকা একটি আঁচিল স্পর্শের দ্বারাও এটি স্থানান্তরিত হতে পারে।

রোগ নির্ণয়

চিকিৎসক কোনো সংক্রামিত ব্যক্তিকে দেখে সহজেই এইচপিভি শনাক্ত করতে পারেন। তবে, প্রয়োজনে তারা প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং এসিটিক এসিড সলিউশন পরীক্ষাগুলো করতে পারেন।

চিকিৎসা : অনেক ক্ষেত্রে, এই রোগের কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে, চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

১. এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আঁচিলগুলোর জন্য ডাক্তার খাবার ওষুধের পাশাপাশি লাগানোর জন্য ক্রিমও দিতে পারেন। ২. এর কারণে ক্যানসার হলে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। ৩. ওষুধে আঁচিল ঠিক না হলে সে ক্ষেত্রে লেজারের দ্বারা অস্ত্রোপচারের দরকার হয়।

রোগ প্রতিরোধ

১. আঁচিল থাকলে তা কখনোই নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না। ২. খালি পায়ে হাঁটবেন না। ৩. ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে অবশ্যই কনডম ব্যবহার করুন। ৪. যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সিগারেট ভাগ করে খাওয়া উচিত নয়। ৫. অন্য ব্যক্তির জুতো বা অন্তর্বাস পরা এড়িয়ে চলুন।

ডা. জাহেদ পারভেজ বড় ভূঁইয়া

চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং এয়েস্থেটিকস সার্জন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : ডা. জাহিদ হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক, গ্রিনরোড, পান্থপথ, ঢাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত