সীমান্তে মধ্যবয়সী নারীর অস্বাভাবিক হাঁটাচলা থামালেন রাজস্ব কর্মকর্তা। তল্লাশিতে অন্তর্বাসে মিলল কয়েক শিশি রক্ত। জিজ্ঞাসাবাদে এগুলো চীনের অন্তঃসত্ত্বার বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ের এক শুক্রবার, তপ্ত দুপুরে ওই নারী ফুতিয়ান বন্দর পার হচ্ছিলেন। এটি চীনের শেনঝেন শহরকে হংকং থেকে আলাদা করেছে। এর ঠিক চার দিন পর আরেক নারীর পিঠব্যাগে প্লাস্টিকে মোড়া ২০৩ শিশি রক্ত নজরে আসে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ে যাওয়ার লওহু বন্দরে ১২ বছর বয়সীকে থামান রাজস্ব কর্মকর্তা। তার পিঠব্যাগে লুকানো ১৪২ শিশি রক্ত পাওয়া যায়।
সিএনএন বলছে, চীনের অন্তঃসত্ত্বাদের এ ধরনের রক্ত পাচারে হংকংয়ের ক্লিনিক ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে। এক সন্তান নীতির চীনে ২০০২ সাল থেকে সন্তানের লিঙ্গ শনাক্তে ভ্রুণের ডিএনএ পরীক্ষা নিষিদ্ধ। মা-বাবা একমাত্র সন্তান ছেলে চান বলেই বিপদ জেনেও ঝুঁকি নিচ্ছেন। ফলে বিগত তিন বছর রক্ত পাচার ব্যাপক বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ অবৈধভাবে আসা ৫৩টি ঘটনা তদন্ত করেছে। অথচ ২০১৫ সালে একটি, ২০১৭ সালে ১৭টি ও ২০১৮ সালে মাত্র ১৮টি ঘটনা ঘটেছিল। হংকংয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাহকরা ১০০ থেকে ৩০০ চীনা মুদ্রা রেনমিনবির (১৪ থেকে ৪২ ডলার) মাধ্যমে এ ধরনের স্পর্শকাতর জিনিস সীমান্ত পার করেন।
এখন এ পরীক্ষার জন্য অনেক সংস্থার জন্মও হয়েছে। তারা চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবোর মাধ্যমে মা-বাবার সঙ্গে চ্যাট করে দরদাম ঠিক করেন। এমন একটি সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে সিএনএন গ্রাহক সেজে জানতে পারেন, গর্ভধারণের ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ সময়ে রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এজন্য তারা পরিচিত হাসপাতাল কিংবা নার্সদের বাসায় ডেকে রক্ত দেন। পরে এগুলো পশুপাখির রক্তের নমুনার সঙ্গে হংকংয়ে যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় ৪৯০ ডলার খরচ হয়।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর বলেছে, ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লিঙ্গ নির্ধারণের চেষ্টায় চীনে ১ কোটি ২০ লাখ কন্যাশিশুর ভ্রুন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হংকং সব দেখেও চোখ বন্ধ করে আছে। তারা লিঙ্গ শনাক্তে অত্যাধুনিক ‘এনআইপিটি’ পরীক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়েছে। যদিও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টম শেক্সপিয়েরে বলেন, ‘অনাগত সন্তান সম্পর্কে জানতে আগে ৪ থেকে ৫ মাস লাগত। এখন মাত্র ১০ সপ্তাহ। এতে গোটা বিশ্বে ভ্রুন হত্যা বাড়ছে।’
