বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাত হিসেবে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনের ছবি।
এ ঘটনায় অনলাইন ও পাঠক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় একজন লেখককে এভাবে যুক্ত করায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকে।
সানজানা পায়েল নামে একজন লেখেন, 'কিছুক্ষণ আগে বিষয়টা দেখে পুরাই থ হয়ে গেছিলাম। ভুলও মানুষ একটা লিমিটে করে!'
জান্নাতুল ফেরদৌস মন্তব্য করেন, 'এমন ভুলের জন্য কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত।'
এ বিষয়ে লেখক সাদাত হোসাইন ফেসবুকে লেখেন,
'আমি বিষয়টি দেখেছি। (দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ১৬ অক্টোবর সংখ্যার প্রথম পাতার প্রথম কলামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সংবাদে অভিযুক্ত 'সাদাত' নামক আসামির গ্রেপ্তারের সংবাদে 'ভুলক্রমে অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে' পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্টিং ভার্সনে আমার ছবি ছাপা হয়েছে) বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশের সাথে কথা বলেছি। জিডি করার প্রক্রিয়াও চলছে। সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আমি একটি প্রোগ্রামে যোগ দেয়ার জন্য যাত্রাপথে থাকায় প্রক্রিয়াগুলো একটু বিলম্বিত হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় যতদ্রুত সম্ভব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করছি আপনারা যারা বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন এবং অনলাইনে ইতোমধ্যেই বিষয়টি ছড়িয়েও পড়েছে, তারা সকলেই সুবিবেচনা প্রসূত আচরণ করবেন। সবার জন্য ভালোবাসা।
আর, দেশের সকল সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদকর্মীদের প্রতি আহবান যেন আপনাদের অসচেতনতার কারণে এমন ভোগান্তির শিকার কাউকে না হতে হয়।'
পরে জানা গেছে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রোগ্রামে অংশ নিতে সাদাত হোসাইন এই মুহূর্তে ঢাকার বাইরে আছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই তার স্ত্রী উম্মে নুসরাত আরা রাজধানীর শেরে-বাংলানগর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার আবরার হত্যা মামলার আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাটলা বাজার এলাকা থেকে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুস সাদাত বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তরপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে।
