বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১০ জেলেকে আটকের পর তাদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরে চর এককুরিয়া সংলগ্ন লালখারাবাদ নদী থেকে ১০ জেলেকে আটকের পর পোলতাতলী ঘাটে তাদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় এমন অভিযোগ জেলেদের। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল এবং থানার ওসি আবিদুর রহমান লালখারাবাদ নদীতে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তবে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তা সঙ্গে থাকা আবশ্যক। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে না নিয়ে, এমনকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না জানিয়ে অভিযানে যান এএসআই দেলোয়ার। জাল-মাছ জব্দ এবং আদালতে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী মনির হাওলাদার এবং জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, শুক্রবার ভোর থেকে চরএককুরিয়া সংলগ্ন নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করছিল স্থানীয় জেলেরা। ভোর ৫টার দিকে মেহেন্দিগঞ্জ থানার এএসআই দেলেয়ারের নেতৃত্বে দুটি মোটরসাইকেলে ৪ পুলিশ সদস্য ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকারের অভিযোগে জাল ও মাছসহ খোকন হাওলাদার (২০), বোরহান সরদার (১৯), কাওছার তফাদার (১৬), চাঁন মিয়া ২৫, আলাউদ্দিন (৫০) ও লালু ফকির (১৭) এবং ৪ বেদে সম্প্রদায়ের জেলেসহ ১০জনকে আটক করা হয়। পরে জাল ও মাছসহ তাদের নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার পোলতাতলী ঘাটে। সেখানে তাদের আদালতে চালান (সোপর্দ) করার ভয় দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এএসআই দেলোয়ার। একই সাথে আটক জেলেদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার পর আটক জেলেদের মুক্তির বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির হাওলাদার ও জামাল হোসেন রাড়ির মধ্যস্থতায় ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ জেলেকে ছেড়ে দিলেও জাল এবং মাছ নিয়ে যায় এএসআই দেলায়ার।
এদিকে মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্নভাবে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এসব অভিযোগে শুক্রবার সকালে পোলতাতলী বাজরে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। তারা এএসআই দোলোয়ারকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে তার বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এএসআই দেলোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুক্রবার চরএককুরিয়া কিংবা পোলতাতলী বাজারে আমার কোনো ডিউটি ছিল না। আমি ওই এলাকায় যাইনি, বা কাউকে আটক করিনি। আর কারও কাছ থেকে টাকাও নিইনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।’
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল বলেন, ‘মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নদীতে মাছ শিকার বিরোধী কোনো অভিযান চালাতে পারবে না বলে আইনে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শুক্রবার ভোরে মৎস্য বিভাগ চর এককুরিয়া সংলগ্ন লালখাড়াবাদ নদীতে কোনো অভিযানে যায়নি। কোনো বাহিনী সেখানে অভিযান চালালে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।’
অন্যদিকে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় অভিযানের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিতও করেনি।’
বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মা ইলিশ রক্ষার নামে কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিমওয়ালা মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত ২২দিন দেশের ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয়।
