বাগেরহাটে মাদকাসক্ত ছেলের ধারালো অস্ত্রের কোপে মা খুন হয়েছেন। নতুন মোবাইল সেট কিনে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ছেলে রাসেল মোল্লা ওরফে শুকুরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির কাছে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের নাম রাবেয়া মল্লিক (৬৫)। তিনি শহরের বাসাবাটি এলাকার শাহজাহান মোল্লার স্ত্রী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আবজাল সাংবাদিকদের বলেন, রাসেল নামে ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। আজ সকালে সে তার মায়ের কাছে নতুন মোবাইল সেট চায়। তিনি তার ছেলেকে ফোন সেট কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাকে হত্যা করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের মুখমণ্ডল, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মেয়ে নাজমা আক্তার যুথি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার মা রাবেয়া ও ছোট ভাই রাসেল দোতলা বাড়িতে বাস করতেন। মা থাকতেন নিচতলায় আর ভাই দোতলায়। গত দুই তিনদিন ধরে আমার ছোট ভাই রাসেল ইংরেজি সিনেমা দেখার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। এই সিনেমা দেখার কথা মা আমাকে জানালে আমি আজ রবিবার সকালে রাসেলকে সিনেমা দেখতে আমার বাসায় আসতে বলি। আজ সকাল সাতটার দিকে মাকে ফোন করে বলি মা রাসেলকে একটু দেরি করে আমার বাসায় আসতে বলো। মায়ের সাথে এটাই ছিল আমার শেষ কথা। এরপর শুনি মা খুন হয়েছে। আমার বাসায় একটু দেরি করে আসতে বলার কারণে সে ক্ষুব্ধ হয়ে মাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমার ছোট ভাই রাসেল স্কুলে পড়া অবস্থায় খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে নেশায় আসক্ত হয়। তাকে বেশ কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসার পর কিছুদিন স্বাভাবিক থাকে, পরে আবার যা তাই। অন্তত ১৫ বছর ধরে সে মাদকাসক্ত। তার এই নেশার টাকার জোগান দিতে দিতে পরিবারের সবাই ছিল অতিষ্ঠ। টাকা না পেলেই সে মাকে একা পেয়ে মারধর করত। গত প্রায় সাত আট মাস মা সব সময় ছেলের ভয়ে ঘরে দরজা আটকে থাকতেন।
