প্রতিবেশী হলেও ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক চিরবৈরী। এখনকার অবস্থা শীতল যুদ্ধের সময়ের চেয়েও খারাপ। দেশ দুটির সীমান্ত একই, সেখানে প্রতিদিনই পরস্পরের লক্ষ্যে গুলিবর্ষণ হয়। জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্র করে উত্তেজনার সঙ্গে তাদের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
বেড়েছে মেরুকরণও। একসময় সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্রের জন্যই পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। এখন তারা ভারতের সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ঠেকাতে পরমাণু অস্ত্র গড়েছে ইসরায়েল। তাদের সঙ্গে গোপনে সুসম্পর্ক রিয়াদের। ভারতের মিত্রতাও উল্লেখ করার মতো। গোটা বিশ্বে বাণিজ্যের প্রসারই বলে আগামীর নেতৃত্ব নিতে মরিয়া চীন। ফলে সাবধান রাশিয়া। চীনের প্রভাব কমাতে এ অঞ্চলে ভারতই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র মিত্র। আর ভারত ঠেকাতে পাকিস্তানকে কাছে রেখেছে চীন।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার ভারত নতুন ৭টি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের কথা জানিয়েছে, যেটি ২০৩০ সালে হবে ২১টি। এ খবরের পর পাকিস্তানের তৎপরতা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ভারতের লক্ষ্য পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়ে যুদ্ধজয়। ‘আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না’Ñ এমন নীতি এখন পুনর্বিবেচনা করছে তারা। বিপরীতে আর্থিক সংকটেও পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে। পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে তারা খত দেবে না সাফ জানিয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, পাকিস্তানের ১৬০ এবং ভারতের ১৫০টির মতো পারমাণবিক বোমা আছে। বর্তমানে যে প্রতিযোগিতা, তাতে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান ৪০০ থেকে ৫০০ পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ করবে। ইচ্ছে করে না হলেও যেকোনো দুর্ঘটনা থেকে দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায় বলেছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই এ যুদ্ধ হতে পারে এবং সরাসরি ১২ কোটি মানুষ মারা যাবে। ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলেন, ‘অস্ত্র আছে মানে যুদ্ধ বেধে যাবে এমন নয়। দেশ দুটি ইচ্ছে করে কিছু করবে না। দুর্ঘটনাবশত যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’ পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী ড. পারভেজ হুডভাই বলেন, ‘যুদ্ধের সম্ভাবনা সব সময় আছে। তবে তা সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা থেকে হবে না। ভূরাজনীতি ছাড়াও পানির জন্য কাশ্মীর পাকিস্তানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ পরিবেশবিজ্ঞানী অ্যালান রোবোক বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও ভারত এবং চীন; যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ হতে পারে। কাশ্মীর বিরোধে এগিয়ে ভারত ও পাকিস্তান।’
