মোহাম্মদপুরে শিশু গৃহকর্মীকে হত্যা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক শিশু গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির নাম জান্নাতি (১২)। গত বুধবার রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে চার বছর ধরে মোহাম্মদপুরের ৬/৫ স্যার সৈয়দ রোডের দ্বিতীয় তলার এ/১ নম্বর ফ্ল্যাটে রুকসানা পারভীন (৩৮) ও সাঈদ আহম্মেদ (৪২) দম্পতির বাসায় কাজ করত। মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রুকসানা পারভীন ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিক তদন্তেহত্যার আলামত পাওয়ায় রুকসানা পারভীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জান্নাতির বাবা জানু মোল্লা মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশু জান্নাতির বাড়ি বগুড়ার গাবতলী থানার তেলিহাটা ফকিরপাড়া গ্রামে। প্রায় চার বছর ধরে জামালপুরের বকশিগঞ্জের সরকারপাড়া আইরমারী গ্রামের রুকসানা পারভীনের বাসায় সে কাজ করত। গত বুধবার সকাল ৬টার দিকে রুকসানা পারভীন মোবাইল ফোনে জান্নাতির বাবা জানু মোল্লাকে জানান, জান্নাতি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এরপর বাবা জানু মোল্লা বগুড়া থেকে রওনা দেন। এর মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে রুকসানা পারভীন আবার তাকে মোবাইলে জানান, জান্নাতি মারা গেছে। এরপর তিনি (জান্নাতির বাবা) বাড়ি ফিরে তার শ্যালক মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, চাচা শ^শুর সবুজ মোল্লাসহ পিকআপযোগে বুধবার রাত ৩টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে আসেন।

জানু মোল্লা বলেন, ‘আমার মেয়ের কপালের মাঝখানে, মাথায়, নাকের ওপর, গলার ডানপাশে, দুই হাতের বাহুতে, উভয় পায়ের উরুতে, তলপেটে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত দেখতে পাই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আমার মেয়ের মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে রুকসানা পারভীনের বাসাসহ আশপাশের বাসার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, রুকসানা পারভীন ও তার স্বামী মো. সাঈদ আহম্মেদসহ (৪২) অজ্ঞাতনামা আসামিরা আমার মেয়েকে তাদের বাসায় মাঝেমধ্যেই মারধর করত।

গত ২২ অক্টোবর বিকেল অনুমান ৩টার দিকে আসামীদ্বয়সহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা আমার মেয়ে জান্নাতিকে মারপিট করে হত্যা করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রাত অনুমান ১১টার দিকে আমার মেয়ের মৃতদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত