৩৬ টাকার চাল তুলে ১৮ টাকার বিতরণ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৫ পিএম

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডির ৪২৩ বস্তা সরকারি চাল বদল করে বাজার থেকে নিম্নমানের ও কম দামের চাল কিনে সেই চাল ভিজিডির চালপ্রাপ্ত উপকারভোগী নারীদের দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিম্নমানের চাল দেওয়ার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার জন্য।

তদন্ত কমিটির চার দিনের তদন্তে বেরিয়ে আসে চেয়ারম্যানের চালের চালবাজি! ভিজিডির চালপ্রাপ্ত একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, এর আগে তারা যতবার চাল পেয়েছেন, সব চালই ভালো ছিল। এবার এমন চাল দেওয়া হয়েছে, সেই চালের ভাত খাওয়া যাচ্ছে না। খুব গন্ধযুক্ত চাল দেওয়া হয়েছে এবার। বাজারে বিক্রি করলেও এই চাল কেউ কিনবে না বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভিজিডির উপকারভোগী নারী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর খানসামা খাদ্যগুদাম থেকে ৪২৩ বস্তা আমন গুটিস্বর্ণা জাতের চাল উত্তোলন করেন ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ সরকার। পরের দিন ২৫ সেপ্টেম্বর সেই চালের পরিবর্তে বোরো মৌসুমের হাইব্রিড মোটাজাতের চাল বিতরণ করা হয়েছে। গুটিস্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজির দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা ছিল ৩৬ টাকা। অপরদিকে চেয়ারম্যানের বিতরণ করা বাজার থেকে কেনা চালের দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১৮ টাকা হতে পারে বলে জানান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

২৫ সেপ্টেম্বর ভিজিডির চাল বিতরণের সময় চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসেবে ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাহারুল ইসলাম বাবুল এবং ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য রানা উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটির তদন্তে জানা যায়, চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই দুজন ইউপি সদস্যের যোগসাজশেই সরকারি গোডাউনের বেশি মূল্যের চাল বিক্রি করে বাজারের নিম্নমানের চাল উপকারভোগীদের দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী দলের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ২৪ তারিখ ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ সরকার ৪২৩ বস্তা চাল খানসামা খাদ্যগুদাম থেকে ভিজিডির সুবিধাপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য নিয়ে যান। সরকারি ক্রয়কৃত ৩৬ টাকা মূল্যের চাল তিনি নিয়ে ওই দিনই স্থানীয় টঙ্গুয়া বাজারের রফিকুল ইসলামের হাসকিং মিলে নিয়ে গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান। মূলত রফিকুল ইসলামের হাসকিং মিল থেকেই বাজারের নিম্নমানের ও কম দামের চাল ভিজিডির চাল হিসেবে বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার আরেকজন বলেন, চেয়ারম্যানের চাল নিয়ে প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছি। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুজন ইউপি সদস্য ও একজন হাসকিং মিল মালিক জড়িত।

এ বিষয়ে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাহারুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘চাল বিতরণের প্রতারণার সঙ্গে আমাকে জড়ানো হয়েছে। প্রতারণার বিষয়ে আমি জড়িত নই।’

অভিযুক্ত অপর ৩নং ইউপি সদস্য ফজলে রাব্বী রানা বলেন, ‘এখানে আমাদের দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।’

অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন জানিয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে দিই। সেই কমিটি চার দিন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের শতভাগ সতত্যা পায়। অভিযুক্তদের বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত