বর্জ্যে বিষাক্ত শঙ্খ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৭ পিএম

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক-সংলগ্ন চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খ নদী এখন চরম দূষণের কবলে। ছোট কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে এবং নদীর তীরে ফেলা হাটবাজারের প্রতিদিনকার ময়লা-আবর্জনার কারণে শঙ্খের পানি এখন কালো বিষে পরিণত হয়েছে।

দেখা গেছে, চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ডাস্টবিন না থাকায় হাটবাজারের প্রতিদিনকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এতে সাঙ্গু সেতুর উত্তর প্রান্তে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক-সংলগ্ন এলাকাটি পরিণত হয়েছে স্থায়ী ডাস্টবিনে। এখানকার ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি পৌর সদর এলাকায় শঙ্খ নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য খোলা শৌচাগার। এতে শঙ্খ নদীর পানি দূষণের পাশাপাশি নদীর পাড় পরিণত হয়েছে স্থায়ী ডাস্টবিনে।

ফলে নদীর ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশ আজ বিপন্ন। এককালে চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ ছিল। কিন্তু এখন তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে জমির উর্বরতা শক্তি। ধ্বংসের পথে মৎস্যসম্পদ। নদীতে পানির চেয়ে যেন বর্জ্যই বেশি। মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ও বর্জ্যরে মিশ্রণে নদীর পানির রং পাল্টে কালচে হয়ে গেছে।

শঙ্খ নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অনেক ছোট মিল-কারখানা। এ নদীতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলার কারণে পানি আজ দূষিত হতে হতে বিষময় হয়ে পড়েছে। ডাইং ইউনিটগুলোতে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে জন্ডিস, ডায়রিয়া, উচ্চরক্তচাপ, মূত্রনালি ও কিডনিজনিত রোগ, চর্মরোগসহ ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এদিকে দূষণের কারণে নদীতে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে, জলজ উদ্ভিদও মরে যাচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্যরে বিষক্রিয়ায় জমির ফসলের ফলনও অনেক কমে গেছে।

 উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও পাশের এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলী হিরু বলেন, একসময় শঙ্খ নদীর পানি স্বচ্ছ ও ব্যবহার উপযোগী ছিল। কিন্তু এখন নদীর পানি শরীরে লাগলে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত জায়গার অভাবেই নদীর উত্তর প্রান্তে সেগুলো ফেলা হচ্ছে। নবগঠিত পৌরসভা হওয়ার কারণে এখানে লোকবল সংকট রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত