ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দখল করে ‘দোকান বাণিজ্য

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৮ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দখল করে বাজার গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা অগ্রিম এবং দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়ায় শিমরাইলে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বসানো হয়েছে এ বাজার।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৈরি পোশাক, জুতা, মুঠোফোন, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের তিন শতাধিক দোকান রয়েছে এ বাজারে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। আদমজী ইপিজেডসহ এলাকার পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পথচারীদের ভিড় প্রকট হয়। এ সময় শিমরাইল মোড়ের ফুটওভারব্রিজ দিয়ে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। আদমজী ইপিজেডের পোশাক কারখানার শ্রমিক ইয়াছমিন আক্তার, লিপি বেগম, সাথী ও বিউটি জানান, ভিড়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত নারীরা নানাভাবে বখাটেদের লাঞ্ছনা ও কটূক্তির শিকার হন। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় তাদের। আর এখানে নির্মিত ফুটওভারব্রিজের ওপরও বসেছে দোকান। ফলে ফুটওভারব্রিজ পারাপারেও পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হন।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়কের রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড থেকে হাজি আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট পর্যন্ত ১৮ ফুট প্রশস্ত ও তিন শতাধিক ফুট দীর্ঘ একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। যানজট কমাতে জেলা শহর থেকে আসা গাড়ি ঢাকার দিকে যেতে এ বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় এক বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও পাকা করা হয়েছে মাস দু-এক আগে। পাকা করার পরপরই সওজ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে হাত করে সড়কটি দখল করে বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। বাজারে শুধু চাঁদাবাজি আর ‘ভাড়া-বাণিজ্য’ই নয়, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিপিডিসি সিদ্ধিরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মিটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইপাস সড়কের পুরোটাই দখল করে দুই পাশ ও মাঝখান দিয়ে লাইন করে বসানো হয়েছে দোকান। পথচারী রবিউল, আবদুল জব্বার, শফিউল আলম সড়কে বাজার বসানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

অগ্রিম ও দৈনিক ভাড়ার বিনিময়ে রাস্তার ওপর দোকান বসিয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ২৫ বর্গফুট আয়তনের দোকানে দেড় লাখ এবং ৫০ বর্গফুট আয়তনের দোকানে তিন লাখ টাকা করে অগ্রিম এবং দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন তারা। আলম ওরফে গোধূলি আলম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজুর লোকজন দোকান বসিয়ে দৈনিক ভাড়া নিচ্ছেন। এ বাজার বসিয়ে অগ্রিম হিসেবে তারা কমপক্ষে তিন কোটি আদায় করেছেন। আর দৈনিক ভাড়া আদায় করছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে আলম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লিজ নেওয়া অংশে কয়েকটি দোকান আমি বসিয়েছি। অন্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন কাউন্সিলর ফারুক ও আমিনুল হক রাজু।’ কাউন্সিলর ফারুক সড়ক দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘আমি নিজে উপস্থিত থেকে সব দোকান উচ্ছেদ করাব।’ আমিনুল হক রাজু বলেন, ‘আমি রেন্ট-এ কারের মালিক সমিতির সভাপতি। সড়কের ওপর কোনো দোকান বসাইনি। চাঁদাও খাই না।’

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, ‘আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বহুবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তার পরও আবার দোকানপাট বসেছে বলে জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার উচ্ছেদ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত