যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত হয়েছেন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি। কিন্তু সিরিয়ার কুর্দিদের হাতে বন্দি তার হাজারো মোস্ট ওয়ানটেড যোদ্ধা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ অক্টোবরের শুরুতে কুর্দি দমনে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের তুরস্ক অভিযান চালালে, বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব বন্দিকে সামনে আনা হয়। তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতার পর ২২ অক্টোবর থেকে অভিযান স্থগিত। কিন্তু সেখানে বাগদাদির বন্দি অনুসারীদের কপালে কী ঘটেছে, তা অস্পষ্ট।
কুর্দি প্রশাসনের তথ্যে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সন্দেহভাজন আইএসের ১২ হাজার যোদ্ধা বন্দি। এদের মধ্যে আড়াই হাজার অ-ইরাকি, যারা বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশের নাগরিক। বন্দিদের বেশিরভাগ তিউনিসীয়। ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের ৬০ থেকে ৭০ জন রয়েছেন। এর বাইরে ৪ হাজার সিরিয়ার ও বাকিরা ইরাকের নাগরিক।
আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে তাদের আটক করে কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী ৭টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) এসব ডিটেনশন সেন্টারের তথ্য কখনো প্রকাশ করতে চায় না। তবে দাশিসার রোজ, জারকিন, নভকুর ও দেরিকে ডিটেনশন সেন্টারগুলোর অবস্থান। অনেক বন্দি ভয়ংকর হলেও, ডিটেনশন সেন্টারের নিরাপত্তা খুবই নাজুক। শুধু ভবনই আছে, নেই শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গত রবিবার বাগদাদি নিহতের ঘোষণা আসার পর এসডিএফের প্রধান কমান্ডার মজলুম আবদি সতর্ক করেন, আইএসের বড় সংখ্যক যোদ্ধা এখন প্রতিশোধের জন্য মরিয়া। তারা বন্দিশালাতে দাঙ্গা ছাড়াও যেকোনো কিছু করতে পারে। তার এ সতর্কতার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। বাস্তবতা হলো, তুরস্কের অভিযানের মুখে বহু আইএস বন্দি পালিয়ে গেছে, যারা এখন নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।
গত সপ্তাহে সিরিয়ায় ওয়াশিংটনের বিশেষ বাহিনীর প্রধান জেমস জেফরি কংগ্রেসকে জানান, ১০০ জনের বেশি আইএস বন্দি পালিয়ে গেছে, যাদের বিষয়ে তাদের কাছে এখন কোনো তথ্য নেই। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানান, তুরস্কের অভিযানে পালিয়ে যাওয়া বড় সংখ্যক আইএস বন্দিকে পুনরায় কুর্দি বাহিনী আটক করেছে। কুর্দিরা অবশ্য আগেই বলে আসছিল অভিযান হলে বিদেশি বন্দিদের রক্ষা করা তাদের পক্ষে কঠিন হবে। ফ্রান্স এবং অন্য দেশগুলো এসব বন্দিকে নিজ দেশে আনার ক্ষেত্রে আইনি বাধা ছাড়াও জনরোষের আশঙ্কা থেকে পার্শ্ববর্তী ইরাকে স্থানান্তরের পক্ষে মত দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়ায় উদ্বেগ জানায়। কারণ তুরস্কের অভিযানের সময়ই তারা পলাতক ভয়ংকর দুজনকে আটক করে।
বন্দি আইএস যোদ্ধাদের বহু স্বজন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আল-হোল ক্যাম্পের মতো অন্যান্য ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সেখানে দাঙ্গার আশঙ্কা করছেন। আইন ইশা নামে ডিটেনশন ফ্যামিলি সেন্টার থেকে এমন দাঙ্গায় অক্টোবরে ৮০০ জন পালিয়ে গেছে। এদের কিছু সংখ্যক পরে ধরা হলেও বেশিরভাগ তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছে। বাকিরা আইএসকে সংগঠিত করে সিরিয়ায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, জেল পালানো রোধ এবং ডিটেনশন সেন্টারের নিরাপত্তা শূন্যতার সুবিধা নেবে আইএস। বিগত কয়েক মাসে আইএসের স্লিপার সেলের আক্রমণ থামানো যায়নি। এরা এখন প্রতিশোধে হামলা আরও বাড়াবে।
