খুলনা মহানগরীর অলিগলি ছেয়ে গেছে প্যানা সাইন, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে। উৎসব, সাফল্য, শুভেচ্ছা ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন হিসেবে এগুলো টাঙায়। এরপর চলে বছরের পর বছর। এতে নগরীর সৌন্দর্যহানি হয়। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান পেতে ভোগান্তিতে পড়েন। অনুমোদন না থাকায় মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরই নগরীর সব প্যানা ফেস্টুন, ব্যানার সরিয়ে ফেলা হবে। এরপর যারা অনুমোদন ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে এগুলো লাগাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর জিরো পয়েন্টের কবি কাজী নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে শুরু করে ময়লাপোতা, রয়েল চত্বর, শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, নতুন রাস্তার মোড়, দৌলতপুর, পুরাতন লোয়ার যশোর রোড, রূপসা ঘাট, পিটিআই মোড়, মজিদ সরণি, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসহ ছোট-বড় সড়কের দুই পাশে সড়ক বিভাজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিকরা প্যানা সাইন, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন। আগে কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপনে ঠাসা থাকলেও, এখন তা দখল করে নিয়েছে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল। পদপ্রত্যাশী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের অনুসারীরা এগুলো টাঙিয়েছেন। অনেকেই নিজের বড় আকারের ছবি দিয়ে শুধু সম্মেলনের সফলতা কামনা করেছেন।
অনেক ব্যানার-ফেস্টুনে নির্ধারিত উৎসব, শুভেচ্ছা ও অনুষ্ঠানের তারিখ শেষ হলেও, এখনো রয়ে গেছে। সিটি করপোরেশন ভবনও ফেস্টুনে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য, সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা, সড়ক বিভাজক, ভবনের দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। অবৈধ ব্যানার-ফেস্টুনে এসব প্রতিষ্ঠান আড়ালে পড়ে গেছে।
অপরিকল্পিত বিজ্ঞাপনে বিরক্ত নগরবাসীর অভিযোগ সব দেখেও নির্বিকার সিটি করপোরেশন। ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরীর নিরালা এলাকার বাসিন্দা কায়সার আহমেদ বলেন, ‘যারা অবৈধ ব্যানার-ফেস্টুন বন্ধ করবে, সেই সিটি করপোরেশন ভবনেই অসংখ্য সাঁটা আছে। আর ডিসেম্বরের সম্মেলন ঘিরে এখনই শহীদ হাদিস পার্ক মুড়ে ফেলা হয়েছে নেতাদের বিজ্ঞাপনে। শহরের নতুন আগতরা ভুলে পার্ককেই ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয় ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।’
সার্বিক বিষয়ে কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘শিগগিরই নগরীর অবৈধ সব প্যানা সাইন, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণে অভিযান চালানো হবে। এরপর যারা অনুমোদন ছাড়া লাগাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
