মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৬৬টি বিচারবহির্ভূত হত্যা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৪৮ এএম

মাদকবিরোধী অভিযানে গত বছর সারা দেশে ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দোষারোপ করে সরকারের কাছে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার ‘কিল্ড ইন ‘ক্রসফায়ার’ : এলেগেশন্স অব এক্সট্রাজুডিশিয়াল এক্সিকিউশন্স ইন বাংলাদেশ ইন দ্য গুইজ অব এ ওয়ার অন ড্রাগস’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি এসব দাবি করে। এতে বলা হয়, মাদকের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ মে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর অনেককে রাস্তা বা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের অনেকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেককে স্বজনরা হাসপাতাল মর্গে পেয়েছেন। সাধারণত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’র নামে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় অনেককে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

অবশ্য এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো কাউকে আগে গুলি করে না। হামলা হলেই আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে বাধ্য হয়। এরপরও নিরাপত্তা বাহিনীর কারও বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িতের প্রমাণ পেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এক ভুক্তভোগীর বরাতে সংস্থাটি জানায়, পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। দিতে না পারলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। তাতে প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। যদিও এসব মামলার কথিত প্রত্যক্ষদর্শী অ্যামনেস্টিকে জানান, নিজ চোখে কোনো হত্যাকাণ্ড তারা দেখেননি। যেভাবে বলতে বলা হয়েছে, তারা সেভাবেই বক্তব্য দিয়েছেন।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক দিনুশিকা দিসানায়াকে বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে দিনে গড়ে একজন করে মারা গেছে। আটকের পর বিচারের সম্মুখীন না করেই অনেককে মেরে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত