পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে একটি চক্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধান ও অভিযানে। সিন্ডিকেটে জড়িতদের নাম-ঠিকানা প্রশাসনের হাতে এসেছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও রেয়াজ উদ্দিন বাজারে জেলা প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত যৌথ অভিযান থেকে চক্রটিতে জড়িতদের নাম জানা গেছে। তারা মিয়ানমার থেকে আদমানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে বেশি দামে বিক্রিতে বাধ্য করছে ব্যবসায়ীদের।
এদিকে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় খাতুনগঞ্জের গ্রামীণ বাণিজ্যালয়কে ৫০ হাজার টাকা ও রেয়াজ উদ্দিন বাজারের রুহুল আমিন সওদাগরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় জানানো হয়, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করলে জেল-জরিমানা করা হবে।
গতকাল দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ পরিচালক শাহিদা সুলতানা, মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব সিন্ডিকেটের তথ্য দেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির নেতৃত্বে এই অভিযানে উঠে আসে কক্সবাজার ভিত্তিক আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট,পাইকারী কয়েকজন বিক্রেতা, ব্রোকার এবং খাতুনগঞ্জ ও চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকজন এর পেঁয়াজের দামের কারসাজিতে যুক্ত আছেন । তাদের মধ্যে আছেন টেকনাফের আমদানিকারক মো. সজিব, মম (মগ), জহির ও সাদ্দাম। আছে পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. ফোরকান, মো. শফি গফুর, মিন্টু, খালেক ও টিপু। টেকনাফ স্থল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট কাদের, টেকনাফের কে কে পাড়া এলাকার কমিশন এজেন্ট মেসার্স আলীফ এন্টারপ্রাইজও এই সিন্ডিকেটে জড়িত।
নগরীর খাতুনগঞ্জের মেসার্স আজমীর ভান্ডার, নুপুর মার্কেট এলাকার মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ, ঘোষাল কোয়ার্টার এলাকার এ হোসেন ব্রাদার্স এবং খাতুনগঞ্জের মেসার্স আল্লার দান স্টোরের নামও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেব উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তকে বলেন, উল্লেখিতদের যোগসাজশে মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে ৯০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয় বলে তথ্য দেন খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজ উদ্দীন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন বাণিজ্য মন্ত্রাণয়ের উপ-সচিবের নেতৃত্বে আমরা দাউদকান্দিগামী একটি ট্রাকের চালান চেক করে দেখতে পাই পেয়াঁজ ৯০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। তাই আড়তদার গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের বলাই কুমার পোদ্দাকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রিয়াজ উদ্দিন বাজারের রুহুল আমিন সওদাগরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আমদানিকারক পর্যায়ে কেউ জোর করে অধিক দাম চাপিয়ে দিলে জেলা প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাইকারিতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকার বেশি হলে জেল-জরিমানা করা হবে এবং খুচরা পর্যায়ে ৬৫-৭০ টাকার দরে বিক্রির নির্দেশনা দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সেলিম হোসেন জানান, মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে আমদানি করা পেঁয়াজ পরিবহন খরচ, শ্রমিক ও মুনাফাও বিবিধ সব খরচ বিবেচনায় নিয়ে লাভসহ ৬০ টাকার বেশি পাইকারি মূল্য হতে পারে না। কিন্তু আড়তে ৯০-১১০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এই ঘটনা নেপথ্যে ১২-১৫ জনের একটি সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। তাদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার দোকানে টাঙানো মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের চারটি দোকানকে ১ লাখ ১০ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
