বিষমুক্ত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আটক ১

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৩ পিএম

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি এখন স্বাভাবিক হয়েছে। এদিকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইমাম উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ এবং জীবিত মাছ ছাড়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। এর আগে মঙ্গলবার জলপ্রপাতের পানিতে ওষুধ ছিটানো হয়ে ছিল।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জলপ্রপাতের পানিতে কেউ পাহাড়ি বিষলতা পিসে প্রয়োগের কারণে সেখানকার মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। তবে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের মাছ ও পানি এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা ও জীবিত মাছ ছেড়ে পরীক্ষা শেষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইমাম উদ্দিনকে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির গৌরনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মোস্তাকিন আলীর ছেলে।

গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত ও ছড়ার পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ, ব্যাঙ ভেসে থাকতে দেখা গেছে। স্বচ্ছ পানির নিচে মরা মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙসহ নানা জলজ প্রাণী পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার থেকে পচা মাছের দুর্গন্ধে গত ৩ দিন ধরে জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। পানি ও বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে আগত পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ না করেই ফিরে যাচ্ছে।

বুধবার মাধবকুণ্ডে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিনের মতো দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত দেখতে বেড়াতে আসছেন। অনেকেই জলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে নেমে ছবি তুলছেন। পানিতে এখন কোনো দুর্গন্ধ নেই। পর্যটন এলাকায়ও দুর্গন্ধ নেই। এছাড়া কেউ কেউ ঝরনার পানি পানও করছেন। স্থানীয় অধিবাসীদেরকে ছড়ার পানি দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

মাধবকুণ্ড পুঞ্জির হেডম্যান ওয়ানবর গিরি জানান, বিষ প্রয়োগের পর থেকে আমরা পানি দুই তিন দিন ব্যবহার করতে পারিনি। অনেকটা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, ঝরনার পানি আমরা পান করি। এ ছাড়া দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ঝরনার পানিতে ওষুধ দেয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রশাসনের লোকজন জানিয়েছেন, পানি ব্যবহার করা যাবে। বুধবার থেকে আমরা পানি পান করতে পারছি।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, এ ঘটনায় গত সোমবার আমরা থানায় জিডি করেছিলাম। মঙ্গলবার মামলা করেছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. শরীফ উদ্দিন বুধবার বলেন, আমরা জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছি। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত