সীতাকুণ্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদবাগান

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭ পিএম

বরইগাছ ফুলে ভরা, ফুল ফুটেছে ডালিমগাছে, ফল এসেছে আমড়া ও পেয়ারাগাছে, আমগাছে এই অসময়ে দেখা যাচ্ছে মুকুল। এছাড়া রয়েছে ড্রাগন ফল, লিচু, পেঁপে, মাল্টা, লেবু, অ্যালোভেরা, মরিচ, বেগুন ও শিমগাছ।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণে প্রায় ২০ জাতের ফলের চারা নিয়ে এমন একটি বাগান গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা কমপ্লেক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে। আর বিদ্যালয়ের নিচতলায় রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির ফুলের বাগান। তার মধ্যে নয়ন তারা, স্টার ফুল, ক্রিসমাস ট্রি, পাম্পকিন, বেলি, চামেলি, জবা, টগর, গ্রিন লিফ, পর্তুলিকা, শতাধিক জাতের অর্কিড ও কয়েক রঙের পাতাবাহারের গাছ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির মতো বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ছাদবাগানের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। এতে প্রথমে শিক্ষকরা অভিভাবকদের উৎসাহিত করেন, বিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ফলজ গাছ লাগানো, নানা জাতের ফল গাছের সঙ্গে পরিচয় ও ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে খুদে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে ধারণা থাকলে তারা নিজেরাই চারা লাগানো ও পরিচর্যায় আগ্রহী হবে।

তাছাড়া বিষমুক্ত, অর্গানিক ফলের জোগান ও নির্মল আনন্দ দিতে পারে ছাদবাগান কিংবা বিদ্যালয়ের আঙিনার ফুলবাগান। এই কারণে অভিভাবকরাও আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেন সহযোগিতায়।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, টিফিন ছুটির ফাঁকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বাগানের গাছে পানি দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর হাজির হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুচ্ছোফা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সোহেল।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সোহেল বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারণা পাবে। বাড়িতে চারা লাগানোর ব্যাপারে আগ্রহী হবে তারা। তাছাড়া বিষমুক্ত নির্ভেজাল ফলের জোগান দিতে পারে এই ছাদবাগান।’

শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুচ্ছোফা বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদে ফলজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী ফুলের গাছ লাগালে সেটা তাদের মানসিকতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত