অযোধ্যার বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির মামলার রায় আজ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১০ এএম

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আলোচিত অযোধ্যা মামলার রায় দিতে চলেছে। লাগাতার ৪০ দিন শুনানি শেষে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলার রায় দেবে।

এর মাধ্যমে বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কের অবসান হতে যাচ্ছে। কয়েক শতক ধরে  চলে আসা বিতর্কটি ১৯৯২ সালে নতুন মোড় নেয়। ওই বছর কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কমবেশি ২ হাজার মানুষ নিহত হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এই রায়কে ঘিরে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে কারণে উত্তর প্রদেশ জুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে রাজ্য সরকার। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলকে শান্তি বজায় রাখা আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার রাতে টুইট করেন। তিনি বলেন, “আগামীকাল অযোধ্যা মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। গত কয়েক মাস ধরে এই মামলার লাগাতার শুনানি চলছিল। গোটা দেশের নজর ছিল এই মামলার ওপর। সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আহ্বান শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।”

আরেকটি টুইটে তিনি বলেন, “অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে, তাতে কারো হার-জিত হবে না। দেশবাসীর কাছে আবেদন, এই মামলায় যা রায়ই আসুক, দেশের পরম্পরা অনুযায়ী শান্তি বজায় রাখাটাই আমাদের মূল কর্তব্য হবে।”

১৭ নভেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সেই অনুযায়ী তার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে প্রতিদিন শুনানি হয়েছে।

এর আগে ১৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রাখেন প্রধান বিচারপতি। শুক্রবারই উত্তর প্রদেশ পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজেন্দ্র কুমার ও ডিজি ওমপ্রকাশ সিংহ।

অন্য দিকে, রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কিত জমি মামলার রায়ের জন্য অযোধ্যা ইতিমধ্যেই দুর্গের চেহারা নিয়েছে। কেন্দ্র আগেই চার হাজার আধাসেনা পাঠিয়েছে। ৭৮টি রেল স্টেশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শনিবার উত্তর প্রদেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বৃহস্পতিবারই প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রশাসন এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন। লখনউ এবং অযোধ্যায় দু’টি হেলিকপ্টার মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গোটা উত্তর প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে শুক্রবার রাত থেকেই।

পাঁচ বিচারপতিরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিকেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সংবেদনশীল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রামমন্দির নির্মাণ বিজেপির ইস্তাহারে থাকলেও মোদি সরকারের অবস্থান ছিল, আদালতই শেষ কথা বলবে। কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলগুলোও আদালতের রায়ে আস্থা রাখার কথা বলেছে। ৬ আগস্ট থেকে টানা ৪০ দিন ধরে অযোধ্যা মামলার শুনানির পরে ১৬ অক্টোবর রায় সংরক্ষিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতীর মামলার পরে আর কোনো মামলায় এত দীর্ঘদিন সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত