চাটমোহরে একটি ক্লিনিকে সিজারের পর সেলাই ও আনুষঙ্গিক কাজ না সেরে পালানোর সময় ‘চিকিৎসক’ সাদ্দাম হোসেন নীরব (৩২) ও তার সহকারী আসাদুজ্জামানকে (৪০) আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে সঙ্কটাপন্ন তাছলিমা খাতুন (৩৫) নামে ওই নারীকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের নারিকেলপাড়া মহল্লার ‘চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতাল’ নামের ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। তাছলিমা উপজেলার বোঁথড় গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। আটক নীরব ও আসাদুজ্জামানের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামে।
তাছলিমার স্বজনরা জানান, সোমবার প্রসব ব্যথা উঠলে তাছলিমাকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে কথিত চিকিৎসক নীরব, সহকারী আসাদুজ্জামান, মালিক আমির হোসেন বাবলু, দুজন নার্স মিলে অস্ত্রোপচার করেন এবং কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তখন তাছলিমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সবাই পালিয়ে যান। এ সময় নীরব ও তার সহকারীকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে সঙ্কটাপন্ন তাছলিমাকে অন্যত্র নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক বায়েজীদ-উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ওই ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সেলাই না করেই সবাই পালায়। পরে রোগীকে পাবনা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তরের কথা জানিয়ে চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এর আগে গত ৩ জুলাই ওই ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অস্ত্রোপচারের কারণে ‘চিকিৎসক’ নীরব এবং ক্লিনিক মালিককে জরিমানা করা হয়। এ সময় ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন এসিল্যান্ড ইফতেখারুল ইসলাম। ওই সময় নীরবকে চিকিৎসক সনদ ও রেজিস্ট্রেশন দেখাতে বলা হলেও তিনি পারেননি।
