ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ শেষ হয়েছে চার মাস। কিন্তু এখন পর্যন্ত বর্তমান নেতৃত্ব হল কমিটি দিতে পারেনি। কমিটি নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিও নেই। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। হলপর্যায়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রটোকল ধরে রাখতে শীর্ষ দুই নেতা কমিটি দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে তাদের মতবিরোধকেও দায়ী করছেন অনেকে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বলছে, হলপর্যায়ে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ নেতৃত্ব আনার জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য কমিটি দিতে দেরি হচ্ছে।
জাতীয় সম্মেলনের আড়াই মাস পর গত বছর ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদ্দাম হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। ১০ মাস পর চলতি বছর ৩০ মে শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কমিটি দিতে পারেননি বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
অসুস্থতার কারণে এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে গেছেন। ফলে কবে হল কমিটি দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে কেউ জানাতে পারেননি।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা পায়। গঠনতন্ত্রের ১০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। জেলা শাখাকে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিতদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এ সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সে ড়্গেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহ্বায়ক বা অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেবে।
দীর্ঘদিনেও হল কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী হাসিবুর রহমান শান্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন নেতাদের পেছনে ঘুরছি। অনুসারী জুনিয়ররাও এখন আমাদের ওপর বিরক্ত। কমিটি হলে ইজ্জত রক্ষা হয়। পদ পেলে পেলাম, না পেলে বিকল্প চিন্তা করতে পারব।’ হল কমিটি না হওয়ার পেছনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন কবি জসীম উদ্দীন হলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষনেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তারই মাশুল দিচ্ছি আমরা হলপর্যায়ের নেতারা। দীর্ঘদিন আন্দোলন করছি, ছাত্রত্বও শেষের পথে। এখনো একটি পদ না পাওয়া খুবই দুঃখের।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, কমিটি না হওয়ায় হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এদের অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পেয়েছেন। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হলে সময় দিতে পারছেন না। আবার গন্তব্য জেনে যাওয়ায় তাদের নেতৃত্বও অনেকে মানতে চান না। কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আরিফ হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সংগঠনে সময় দিচ্ছি। তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। ফলে আমি হল সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায় নিতে অধীর আগ্রহে বসে আছি। আশা করছি, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’
কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে শোভন-রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়ার পর হল কমিটি নিয়ে সংকট বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসায় হলের রাজনীতিতেও মেরুকরণ শুরু হয়েছে। শোভন-রাব্বানীর অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সেখানে আরেকটি অংশ দাপট দেখাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটির বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল নাহিয়ান খান জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হল কমিটিতে সবসময় আদর্শিক ও স্বচ্ছ ইমেজের ছেলেমেয়েদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। এজন্য যাচাই-বাছাইয়ে একটু সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ে কমিটি দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ মেয়াদ উত্তীর্ণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সুপার ইউনিট। মেয়াদ শেষের বিষয়ে অবহিত রয়েছি। তাদের বিষয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। হুটহাট কিছু করা হবে না।’
