চট্টগ্রামে যুবলীগের দু’গ্রুপে মারামারি অনুষ্ঠান পণ্ড

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:০৯ এএম

চট্টগ্রামে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সভা পণ্ড হয়ে গেছে। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টার দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সভা শুরু হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় সভার শুরু দিকে বক্তব্য দেন যুবলীগ নেতা সৈয়দ মাহমুদুল হক, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন খোকা। পরবর্তী সময়ে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বক্তব্য দেওয়াকালীন এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও আরেক নির্ধারিত অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চুর বক্তব্য দেওয়াকালীন হঠাৎ মঞ্চের সামনে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। দু’পক্ষ একে অপরকে চেয়ার ছোড়াছুড়ির পাশাপাশি ইট, পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় ১০ / ১৫ মিনিট পর পুলিশ দু’পক্ষকে ধাওয়া দেয়। এরূপ বিশৃঙ্খলা দেখে বক্তব্য না দিয়েই মঞ্চ ছেড়ে চলে যান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নওফেল।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হলে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে যুবলীগ নেতারা সমাবেশস্থলে পৃথক মিছিল নিয়ে আসেন। এরূপ মহানগর যুবলীগের সদস্য ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর মোবারক আলীর অনুসারীরাও মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময়ও খানিকটা উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন দু’পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘাতের ঘটনা হয়নি। পরবর্তী সময়ে এর রেশ ধরে সমাবেশের মাঝখানে এই চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক নেতা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভা চলাকালীন হঠাৎ দু’পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে মহানগর যুবলীগের যুগ্¥ আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা অনাকা•ক্ষত ঘটনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান তাই প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা এসেছেন। জনসমাগম একটু বেশি হয়েছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছি। দলের ভেতর কেউ যদি আধিপত্য বিস্তারে এই মারামারির ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বহিরাগত কেউ যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে তাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত