কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানে না জাহাঙ্গীর

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩২ পিএম

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেটে শাহ জালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করে উদয়ন এক্সপ্রেসে ফিরছিলেন চাঁদপুরের হাইমচরে তিকশিকান্দির জাহাঙ্গীর হোসেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আমাতন বেগম, মেয়ে মরিয়ম, বোন রাহিমা বেগম, বোনের ছেলের বউ কাকলী বেগম ও তার শিশুকন্যা মাহিমা।

সোমবার রাতের ওই ট্রেনটি সিলেট থেকে ছেড়ে আসার সময় তারা ছিলেন শেষের দিকের ১০ নম্বর বগিতে। তবে বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। ওই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলাকায় তূর্ণা নিশীথা ট্রেন তছনছ করে দেয় তার সুখের সংসার। ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আমানত, মেয়ে মরিয়ম আর ভাগিনার বউ কাকলী বেগম। মারাত্মক আহত হন জাহাঙ্গীর হোসেন নিজে। তার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে গেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে কাতরাতে থাকা জাহাঙ্গীরকে এখনো জানানো হয়নি স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনের মারা যাওয়ার খবর।

স্বজনরা জানান, গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে চেতনা ফেরে জাহাঙ্গীরের। তিনি ট্রেনে থাকা স্বজনদের খবর জানতে চান নার্সদের কাছে। কিন্তু নার্সরা তাকে কিছুই জানাননি।

রাত সাড়ে আটটার দিকে জাহাঙ্গীরের পরিবারের নিহতদের লাশ কুমেক হাসপাতালে কিছুক্ষণের জন্য আনা হলেও তাকে কিছু না জানিয়ে তিনজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপুরের হাইমচরে। এদিকে গতকাল সাংবাদিকরা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিবারের লোকদের খুঁজে বের করার অনুরোধ করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন পরিজন নিয়ে ৬ নভেম্বর সিলেট যান। সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তারা সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে করে ফিরছিলেন। তারা জানান, জাহাঙ্গীরের বোন রাহিমা ও তার নাতনি মাহিমা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের অবস্থা ভালো নয়। তার শরীর বেশি দুর্বল থাকায় ভেঙে যাওয়া স্থানে এখনই অস্ত্রোপচার করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত