হেমন্তের প্রথম মাস শেষ পর্যায়ে। দেশের অনেক এলাকায় শীতের আভাস বইতে শুরু করেছে। বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে আরও দুই মাস আগে। সরবরাহেও কমতি নেই। তবুও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। মাঝে কিছু সবজির দাম কমলেও গত কয়েক দিনে আবারও বেড়েছে। ইলিশ আসায় মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ইলিশ, পাঙাশ ও তেলাপিয়া ছাড়া বাকি প্রায় সব মাছের দাম চড়া। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, রামপুরা, মালিবাগ রেলগেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫-৬৫ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি ৩৫-৪৫, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-২৫ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৩৫ টাকা, টমেটো ১০০-১১০ টাকা, বেগুন ৫০-৭০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা। এ ছাড়া ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা ও নতুন আলু ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১৩০ টাকা। পুইশাক প্রতি আঁটি ১৫-২০, কচুরলতি ৩০-৪০ টাকা, পটোল ৩০-৪০ টাকা, কাঁকরোল ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৪৫ টাকা। প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০-৪৫ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক সবজির ক্ষেত পানিতে ভেসে গেছে। আবার অতি বৃষ্টির কারণেও অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম। দামও বাড়তি। দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও ১৫ দিন লাগতে পারে।
কমেছে ইলিশের দাম। গতকাল ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিটি বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫০০-৬০০ টাকা ও ৫০০ গ্রাম বা তার নিচেরগুলো বিক্রি হয়েছে ৩০০-৪০০ টাকা কেজিতে। তবে বাজারে পাঙাশ, তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৬০ টাকা কেজি দামে। এ ছাড়া অন্যান্য মিঠা ও সামুদ্রিক মাছের দাম এখনো চড়া। গতকাল রুই ও কাতল প্রতি কেজি ২২০-৪০০, কই ২০০, মৃগেল ২০০-২৮০, শিং ৩০০-৫০০, পাবদা ৩০০-৫০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী জলোচ্ছ্বাসে খুলনা অঞ্চলের অনেক মাছের ঘের ভেসে গেছে। এ জন্য দাম অনেকটা বাড়তি। এর প্রভাব অনেক দিন থাকবে বলেও জানান তারা। তবে বাজারে এখনো আগের অবস্থায় আছে মাংসের দাম। গতকাল ব্রয়লার ১২০-১৩০, লাল মুরগি ১৯০-২১০, গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০, খাসি ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
