বন্ধুকে বাঁচাতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

ঝিনাইদহ শহরের কালীকাপুর এলাকায় বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে সাইদুর জামান সিফাত (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার পশ্চিমপাড়ার মনোয়ার মিয়ার ছেলে সিফাত শহরের

উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়ত। এদিন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকার ১০ নম্বর সেক্টর থেকে মো. মাওলা (১৭) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে বন্ধুদের হাতে খুন হয় মাওলা। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্কুলছাত্র রিফাতের বাবা জানান, গত শুক্রবার রাতে সিফাতের বন্ধু মাহির সঙ্গে এলাকার সুমন ও লিওন নামে দুই যুবকের মারামারি হয়। শনিবার সকালে মাহি ও সিফাত কালীকাপুর মোড়ে বসে মোবাইলে গেমস খেলছিল। এ সময় সুমন, লিয়নসহ আরও দুজন যুবক এসে মাহিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত শুরু করে। তখন সিফাত এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। সিফাত ও মাহিকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিফাতের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মঈন উদ্দীন জানান, জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে স্বজনদের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই নাজিমউদ্দিন জানান, গত বুধবার বিকেলে পাইস্কা এলাকার এখলাছ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক মাওলাকে রিজার্ভ ট্রিপের কথা বলে তার বন্ধু একই এলাকার কাউসার ও সবুজ ডেকে নেয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বৃহস্পতিবার তার বাবা থানায় জিডি করেন।

এসআই বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে মাওলার মোবাইল ফোনসহ কাঞ্চন পৌরসভার তাড়াইল এলাকার মানিকের ছেলে নাছিমকে আটক করা হয়। পরে আটক করা হয় কাউসার ও সবুজকে। তাদের নিয়ে পূর্বাচল ১০ নম্বর সেক্টরের ৩১৬ নম্বর রোডের ৮ নম্বর প্লটের ঝোপের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা মাওলার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নাজিম আরও জানান, মাওলার সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেম ছিল। সেই মেয়েকে নাছিমও ভালোবাসত। এ নিয়ে নাছিম মাওলাকে একাধিকবার হুমকিও দেয়। এরই জের ধরে নাছিমসহ কয়েকজন মাওলাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বুধবার ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়। ওসি মাহামুদুল হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত