কেন জেএনইউ’র কণ্ঠরোধ করতে চায় বিজেপি সরকার

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১১ পিএম

‘ভারতকে ধ্বংস করতে চাইলে আগে জেএনইউকে ধ্বংস করতে হবে’- এমন মন্তব্য করেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রিয়ম্বদা গোপাল। তিনি নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

দ্য হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়া জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে তিন সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার কর্তৃপক্ষ কিছুটা ফি কমালেও তা মেনে নিতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা। প্রতিবাদে সোমবার পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেন জেএনইউ শিক্ষার্থীরা।

দফায় দফায় ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, আটক করা হয়েছে কয়েকজনকেও। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে পড়েছে নয়াদিল্লির রাজপথ।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জেএনইউর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দেশ-বিদেশে অবস্থান করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমর্থন প্রকাশ করছেন। অতীতে ফি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষাজীবনে কী রকম সংগ্রাম করতে হয়েছে, এমন অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন অনেকে।

গত পাঁচ বছর একের পর এক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে ভারতে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। জেএনইউ ছাড়াও হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, পণ্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ে বিক্ষোভে।

তবে জেএনইউর ছাত্র বিক্ষোভ দেশ-বিদেশে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে। ২০১৬ সালে প্রাক্তন আইআইটি অধ্যাপক জগদীশ কুমারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তা চর্চার জন্য নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সেই সব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এই জন্য সেই বছরই বিজেপি সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ বলে তকমা দেয়।

জেএনইউকে নিয়ে সরকারের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে শীর্ষ বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর কণ্ঠেও। সোমবার তিনি দাবি জানান, ‘দুই ‌বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হোক জেএনইউ এবং সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে আধা সেনা মোতায়েন করা।’

সক্রিয় রাজনীতির সুনাম আছে জেএনইউ ক্যাম্পাসের। রাষ্ট্রীয় ও সরকারের যে কোনো অন্যায় ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। 

জেএনইউর ছাত্র সংসদের সাবেক প্রেসিডেন্ট এন সাই বালাজি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে শ্রেণি, বর্ণ, লিঙ্গ এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের পরিবেশ ও নানা বৈপরীত্যের সহ-অবস্থানকে হুমকিস্বরূপ দেখে বর্তমান সরকার।’

এই জন্য তিনি মনে করেন, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির কণ্ঠরোধ করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দীপান্বিতা ঘোষের ভাষ্য, ‘আমি মনে করি জেএনইউকে কবজা করতে পারলে বাকি সবকিছু সহজ হয়ে যায় সরকারের জন্য।’

বালাজি বলেন, ‘ডান-বাম-মধ্যপন্থী সবাই মিলে আমরা এখানে তর্ক বিতর্ক করি। আলোচনা-সমালোচনা করি। এর মাধ্যমে এখানে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। যা যে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ কেউ প্রশ্ন করুক সেটি তারা চায় না। এটি তাদের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে দেয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত