গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা নিয়ে আদেশ পেছাল

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৪১ এএম

গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) পাওনা প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবির বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ পেছাল। আগামী রবিবার আদেশের দিন রেখে এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো ফোরামে মধ্যস্থতার উদ্যোগ না নিতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এর আগে দুই দফা সময় দেওয়ার পর গত ১৪ নভেম্বর আদালতে বিটিআরসির

পাওনা দাবির মধ্যে শর্তসাপেক্ষে আপাতত ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয় গ্রামীণফোন। আর পাওনার অন্তত ৫০ ভাগ পরিশোধ করে পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে বাকি টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করে বিটিআরসি। ওইদিন উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য গতকাল দিন রাখে আপিল বিভাগ।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে জানান, শুনানিতে গ্রামীণফোনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডার টেলিনর এশিয়া। যেহেতু টেলিনর সিঙ্গাপুরে ইন করপোরেট এবং সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে সেহেতু চুক্তির আওতায় কোনোরকম আর্থিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইসিএসআইডির (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস) মধ্যস্থতায় আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করবে তারা। একটি ল ফার্মের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিটিআরসির আইনজীবী মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, আপিল বিভাগে বিচারাধীন অবস্থায় এ ধরনের প্রস্তাব সমর্থনযোগ্য নয়। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ উভয়পক্ষের আইজীবীদের জানায়, যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতে এটি বিচারাধীন তাই আদেশের আগে এ নিয়ে গ্রামীণফোন অন্য কোনো ফোরামে যেতে পারবে না।

গত ১৭ অক্টোবর গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ওই পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগে আবেদন করে বিটিআরসি।

বিটিআরসির দাবি, ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওই দুটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে ২ এপ্রিল নোটিস দেয় বিটিআরসি। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সফলতা আসেনি। এরপর গ্রামীণফোনের স্বত্বের মামলা (টাইটেল স্যুট) ঢাকার দেওয়ানি আদালত গ্রহণ করলেও এর অধীনে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গত ২৮ আগস্ট খারিজ করে দেয়। পরে ওই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত