‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বরেকর্ড গড়ল টয়লেট ক্লিনিং ব্র্যান্ড ডমেক্স। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে এজন্য আয়োজন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্রোডাক্ট স্যাসে ওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান। আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশনের প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সাহায্য করবে বলে আয়োজকরা জানান।
ভোগ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পণ্য ডমেক্স এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, ইউনিলিভারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেদার লেলে, ওয়াটারএইডের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ইমরুল কায়েস মুনিরুজ্জামান, বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর আয়েমান সাদিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে প্রাইমারি পর্যায়ে সব স্কুলে ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ স্কুলে কাজ শেষ হয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে যথেষ্ট আন্তরিক। ইতিমধ্যে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সফল হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশই করতে পারেনি।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন করা জরুরি। এক্ষেত্রে নোংরা টয়লেট টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে বাধা। আমরা এই বাধা কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, ডমেক্সের এই পরিচ্ছন্নতার অভিযান দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজপতিদের সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
ইউনিলিভারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেদার লেলে বলেন, শিশুদের জন্য একটা সুস্থ-সুন্দর আগামী নিশ্চিত করতে আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছে ডমেক্স। বছরজুড়ে সারা দেশের বেশ কিছু স্কুলে নানা রকম সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে ডমেক্স। ইউনিলিভার-ডমেক্স বিশ্বাস করে, সবার সচেতনতায় অদূর ভবিষ্যতে বদলে যাবে শিশুদের স্কুলের নোংরা টয়লেট।
তিনি আরও বলেন, স্কুল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডমেক্স বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের স্কুল টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এজন্য ‘নো মোর নোংরা টয়লেট’ অভিযানকে সফল করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ন্যাশনাল হাইজিন ব্যাস লাইন সার্ভে এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে নোংরা থাকায় বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুলের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযুক্ত। অথচ বছরের পর বছর এই অবস্থা সত্ত্বেও সবাই নিশ্চুপ। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষকসহ জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারক মহল নির্বিকার। কারণ অনেকের কাছে টয়লেট ব্যবহার বা টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলা মানে ‘নোংরা কথা’ বলা, যা সবার সামনে তুলে ধরা লজ্জার বিষয়। এছাড়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা নগণ্য। সঠিকভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে না জানা, পর্যাপ্ত পানি, পানি ব্যবহারের পাত্র ও আলোর ব্যবস্থা বা দরজার লক না থাকা, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর গাফিলতি বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসচেতনতা ইত্যাদি কারণেই স্কুলের লাখ লাখ টয়লেট নোংরা এমনকি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে আছে।
এ সময় আরও বলা হয়, দেশের স্কুলের চার ভাগের তিন ভাগ টয়লেটই ব্যবহারের অনুপযোগী। নোংরা টয়লেটের কারণে আমাদের দুই কোটি শিশু টাইফয়েড, জন্ডিস, কলেরা বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। স্কুলের ছেলেশিশুরা নোংরা সত্ত্বেও কোনোমতে টয়লেট ব্যবহার করে। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে বেশি নোংরা টয়লেট ব্যবহারের উপায় থাকে না। নোংরা টয়লেট ব্যবহার এড়াতে তারা এমনকি সারা দিন পানিও কম পান করে। টয়লেট চেপে রাখার ফলে তাই তারা মাঝেমধ্যেই ইউটিআই বা ইউরিন ইনফেকশনে ভোগার আশঙ্কায় থাকে। এ ছাড়া অনেক স্কুলে পরিচ্ছন্ন একটি টয়লেটও নেই; এমনকি মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো টয়লেটও নেই।
বিশ্ব টয়লেট দিবস উদযাপনে ডমেক্সের এই আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল ওয়াটারএইড, ভলেনটিয়ার ফর বাংলাদেশ, রড়াইল ফাউন্ডেশনসহ ১০০টিরও বেশি স্কুল।
