বিএনপি নেতাদের বিফল কূটনীতিতে ক্ষুব্ধ কর্মীরা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৪ এএম

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজনৈতিক, আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর ঢাকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলের নেতাদের নিয়মিত বৈঠক করতে দেখা গেলেও খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দৃশ্যত কোনো সফলতা আনতে পারেনি তা। দলের নেতাকর্মীদের মনোভাবের বিষয়ে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন সময়ে। তারা চেয়ারপারসনকে মুক্তি দিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে বলেছে কি নাÑ তা তার জানা নেই।

বিএনপির অন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজপথের আন্দোলন, আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক উদ্যোগ সবই চলছে। শিগগিরই তার ফলাফল পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ড. মোহাম্মাদ এনামুল হক চৌধুরী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দিত্বে বিষয়ে অবগত আছেন। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের কার্যক্রম ফলো করছে। তাছাড়া কুয়েতের অনুদানের টাকা নিয়ে গড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বিষয়ে মামলা হওয়ার পর কুয়েতের পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো মামলার বিষয়টি ফলো করছে।

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয় বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। এরই মধ্যে কেটে গেছে ২০ মাস। কবে নাগাদ বিএনপি চেয়ারপারসন জামিন পাবেন সে বিষয়ে দলটির নেতারা কেউ কিছু জানেন না।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির ব্যর্থতার বিষয়ে দলটির নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাবেক নেতা ও কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর আইনগতভাবে কিংবা রাজনৈতিকভাবে বিএনপি সরকারের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। শুধু তাই নয়,

মাঝেমধ্যে দলের নেতারা ঢাকার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও তার কোনো ফসল দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য, চীনসহ বিএনপির অনেক বন্ধুপ্রতিম দেশ ছিল। কিন্তু তাদের কেউই খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে কি না তা দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে না। চাপ দিলে তো বিএনপি নেত্রী মুক্তি পেতেন।

একই বিষয়ে সদ্য দলত্যাগী এম মোরশেদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকতে আমরা ব্লান্ডার করেছিলাম। যার কারণে চীনের মতো একটি পরাশক্তির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের একধরনের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারিনি আমরা। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল। সব মিলিয়ে কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে কোনো বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ সরকারের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে না।

তিনি বলেন, বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে চীন সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। যার কারণে সরকার বাধ্য হয়েছিল দুই নেত্রীকে মুক্তি দিতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর বন্ধুপ্রতিম কোনো দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেনি। ফলে সরকারও নির্ভার রয়েছে। মোট কথা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যে অতীতের ভূমিকায় ফিরে যাবে না তা নিশ্চিত হতে পারছে না।

মোরশেদ খান বলেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে যে কর্মসূচি দরকার, বিএনপি সে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে পারছে না। নয়াপল্টনে বসে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে সংবাদ সম্মেলন করেন কিংবা কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন তাতে সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভা কিংবা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে সরকারের কিছু হবে না। আর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারলে বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্তি পাবেন না

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত