ভুয়া বিল-ভাউচারে ২৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৩ পিএম

হাসপাতাল প্রাঙ্গণের মূল্যবান গাছ কাটা, কর্মচারীদের বিভিন্ন বিল থেকে ঘুষ গ্রহণ, ড্রেন, ট্যাঙ্ক ও আবাসিক এলাকার আগাছা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ২৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমানের কক্ষের সামনে টানানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত।’ অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে অন্তত তিন লাখ টাকার মূল্যবান ফলদ গাছ কেটেছেন তিনি। অনুমতি না

থাকায় সেসব গাছের গুঁড়িগুলো এখনো বিক্রি করতে না পারায় হাসপাতাল চত্বরে পড়ে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অফিস সহকারী রজ্জব আলী খান, ফজলুল হক ও যক্ষ্মা-কুষ্ঠ সহকারী ফিরোজ আহমেদের সহযোগিতায় কর্মচারীদের সব বিল থেকে ঘুষ গ্রহণ, হাসপাতালের ড্রেন, ট্যাঙ্ক ও আবাসিক এলাকার আগাছা পরিষ্কারের নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দেখা গেছে, হাসপাতালের সরকারি ডিসপেনসারিটি ১৯৮৫ সাল থেকে পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও এই কক্ষে এখন হাসপাতালের সাবেক আয়া থাকেন। অথচ এই ডিসপেনসারি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে গত ১০ মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।

২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ ইং অর্থবছরে গত আট মাসে হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় আগাছা, ড্রেন, ট্যাঙ্ক পরিষ্কার বাবদ ১০ লক্ষাধিক টাকা, শ্যামগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, হাসপাতালে জুন মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, অ্যাম্বুলেন্স মেরামত বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কর্মচারীদের বিভিন্ন বিল থেকে ২০% হিসেবে ৪ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, এসি মেরামত ২৫ হাজার টাকা, ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা না দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সব টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন বলে হাসপাতালের কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন। আর এসব ভুয়া বিল ভাউচারের সব ডকুমেন্ট পৌঁছেছে দৈনিক দেশ রূপান্তরের কাছে।

দৌলতপুর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী আবদুল বাতেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে গত ২ জুলাই সোনালী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে তার হাতে দিয়েছি। ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এই টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ঠিকমতো কাজ করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত