দিনাজপুরে রাস্তার পাশে ইটের খোয়ার ব্যবসা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৮ পিএম

দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে রামসাগর যাওয়ার মূল সড়কের পাশেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে ইটের খোয়ার রমরমা ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের জমি দখল করে প্রায় ২০টি ইটের খোয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন অনিরাপদ তেমনি মূল সড়কের পাশেই হওয়াতে ধুলাবালির ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

দিনাজপুর জিমনেশিয়ামের সামনে রাস্তার সঙ্গে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরানোর কথা থাকলেও কোনোপ্রকার ভ্রƒক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষ বা মালিকশ্রেণির। দিনাজপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বারবার নোটিস করার পরও এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাস্তার সঙ্গে দিব্যি ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।

অটোচালক মো. সালেহীন বলেন, ‘শহরের মূল সড়ক এটি। সবসময় এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় ইটের খোয়ার দোকানগুলোর জন্য সবারই সমস্যা হয়। ধুলাবালি চোখে পড়ে এবং যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ে।’

এসব অবৈধ ইটের খোয়ার দোকানে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ে না গিয়ে ইট ভাঙার কাজ করছে আল আমিন ইসলাম (১৫)। সে বলে, ‘আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলের ফাঁকে ফাঁকে এখানে ইট ভাঙার কাজ করি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারি।’ ১৩ বছর বয়সী জান্নাতুন আক্তার ইট ভাঙার কাজ করছে। স্কুলে না গিয়ে ইট ভাঙার কাজই তার এখন পেশা। বলল, ‘আমি স্কুলে যাই না। এখানে ইট ভেঙে কিছু টাকা পাই, সেটা বাড়িতে দিই।’

মূলত ইটের খোয়া তেলের টিন দিয়ে বিক্রি করা হয়। ১০ লিটার পরিমাণ একটি তেলের টিন দিয়ে এক টিন ইটের খোয়ার দাম পড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। দামভেদে তিন প্রকার খোয়া বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি টিন ইট ভাঙা বাবদ একজন শ্রমিক পারিশ্রমিক হিসেবে নেন মাত্র ৮ টাকা। প্রতিদিন গড়ে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ ১৫ থেকে ২০ টিন ইটের খোয়া ভাঙতে পারেন। তবে বেশিরভাগ নারীশ্রমিককে দেখা যায় এসব কাজ করতে। নারীশ্রমিক আমিনা বেগম (৪৫) বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ টিন ইটের খোয়া ভাঙতে পারি। প্রতি টিন বাবদ ৮ টাকা করে পাই।’

ইটের খোয়া এবং বালু ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। সরকারি জায়গায় ব্যবসা করি। মাঝেমধ্যে সরকার ভেঙে দেয় কিন্তু কয়েক দিন পর আবার দোকান দিই। সরকার চাইলে আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে।’ একই ব্যবসা করেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৮ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। সরকারি জায়গায় ব্যবসা করি। কাউকে কোনোপ্রকার ভাড়াও দিতে হয় না। আমরা জানি এটা অবৈধ জায়গা। এর আগে বেশ কয়েকবার এখান থেকে ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়েছিল কিন্তু কয়েক দিন পর আবার এখানেই ব্যবসা শুরু করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তার পাশে যে জায়গায় ইটের খোয়ার ব্যবসা গড়ে উঠেছে সেগুলো জেলা পরিষদের জায়গা। আমরা বারবার ব্যবসায়ীদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য নোটিস করেছি কিন্তু তারা কোনো কথা শোনে না। তবে শিগগিরই আমরা তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত