কক্সবাজারের মহেশখালীতে জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারিদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আজ শনিবার। বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল। ১২০ জনের বেশি জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারির আত্মসমর্পণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন জানিয়েছেন, মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইতিমধ্যে বিশাল আকারের মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এতে ১৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানিয়েছেন, ‘কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার বাহিনীর সদস্য মানিক, আয়াতুল্লাহ, আব্দুস শুক্কুর, সিরিপ মিয়া, একরাম, নাজেম উদ্দিন, আয়ুব আলী, সিরাদোল্লাহ, সাদ্দাম, বশিরসহ অন্তত ১৫ জন। এ ছাড়া আলোচিত কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আবুল, সোনা মিয়া, জমির উদ্দীন, নোনাছড়ির মোহাম্মদ উল্লাহর বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলী, সেকেন্ড ইন কমান্ড করিম ওরফে বদাইয়া, এরফান, উত্তর নলবিলার মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান প্রকাশ শেখ মুজিব ইতিমধ্যে পুলিশের হেফাজতে চলে গেছে বলে জানতে পেরেছি। একইভাবে হোয়ানক ইউনিয়নের শীর্ষ জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারি আলোচিত আয়ুব আলী বাহিনীর প্রধান আয়ুব আলীসহ আরও ২০ সদস্য এবং কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালীর কালু বাহিনীর প্রধান মো. কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ তার বাহিনীর ১৫-২০ জনসহ শতাধিক জলদস্যু রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র্যাবের মাধ্যমে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ৪৩ জলদস্যু আত্মসমর্পণের পর থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অনেক শীর্ষ জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারি। যার কারণে বিভিন্ন পাহাড় ও সাগর উপকূলে অভিযান বাড়ায় পুলিশ। অভিযানের মুখে আবারও আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়ার অন্তত দেড় শতাধিক জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারি। এসব দস্যুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ কারণে যুগ যুগ ধরে মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় অশািন্ত লেগে থাকত।
২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গালাবারুদসহ ৪৩ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রম্নয়ারি ইয়াবা ও অস্ত্রসহ টেকনাফে আত্মসমর্পণ করে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি। আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিরা এখনো মামলা জটিলতায় কারাগারে থাকলেও জলদস্যুরা জামিনে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টি দেখে আজ অন্যান্য দস্যুরাও আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মহেশখালীতে দ্বিতীয় দফা এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সফল হলে আগামীতে ক্রাইমজোন কালারমারছড়া ইউনিয়নে শািন্ত ফিরে আসবে বলে জানান স্থানীয়দের অনেকেই।
