পণ্য খালাসে বিদেশি জাহাজ আসার রেকর্ড করেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত অক্টোবর মাসে মোংলা বন্দরে ৯৩টি জাহাজ ভিড়েছে।
অতীতে একসঙ্গে এত জাহাজ আর মোংলা বন্দরে নোঙর ফেলেনি বলে মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক রবিবার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দর এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে নতুন নতুন জাহাজের আগমন ঘটছে। গত মাসে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ এসেছে এ বন্দরে। ওই সব বিদেশি জাহাজ থেকে প্রায় ১১ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডেলিং হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব পণ্য থেকে বন্দরের প্রায় ৩২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এক দশক আগেও ব্যয়ভার বহনে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হতো। ২০০৮ সাল থেকে এ বন্দরে গাড়ি, খাদ্যশস্য, সার ও ক্লিকার আমদানি এবং হিমায়িত পণ্য রপ্তানি হওয়ার কারণেই লোকসান কাটিয়ে বর্তমানে বন্দরটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এদিকে দিনে দিনে এ বন্দরে জাহাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের কাজও বেড়েছে। মোংলা বন্দরের শ্রমিক সর্দার মো. ইস্রাফিল হাওলাদার ও শাজাহান সিদ্দিকি বলেন, ২০০৮ সালের আগে এ বন্দর মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। দিনের পর দিন বন্দরের পশুর চ্যানেল জাহাজ শূন্য থাকত। শ্রমিকরা না খেয়ে দিন কাটাত। অভাবের তাড়নায় অনেকে বাড়ি ঘর বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তবে এখন চিত্র ভিন্ন বলে জানান শ্রমিক সর্দাররা। তারা বলেন, এখন এ বন্দরে যে পরিমাণ জাহাজ আসছে তাতে সেখানে শ্রমিক পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, মোংলা বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ অর্থ বছরে বন্দরে জাহাজের আগমন ও আয় বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ই অর্থ বছরে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৬২৩ টি, আয় হয়েছে ২’শ ২৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ১’শ ৫৬ কোটি ৪৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ইং বছরে জাহাজ এসেছে ৭৮৪ টি, আয় হয়েছে ২’শ ৭৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ১’শ ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ৪ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ই অর্থ বছরে জাহাজ এসেছে ৯১২ টি, আয় হয়েছে ৩’শ ২৯ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ১’শ ৯৬ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, নিজস্ব জাহাজের জ্বালানি খরচসহ পাঁচটি খাতে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক জানান, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এ বন্দরকে ঘিরে সরকারের নানা রকম পরিকল্পনার কারণে এ বন্দরে জাহাজের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থার আরও উন্নত করতে এরই মধ্যে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এ বন্দরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্দরের চিত্রই পাল্টে যাবে বলেও জানান তিনি।
