নারী পাচারে সক্রিয়

পঞ্চাশের বেশি এজেন্ট চক্রের গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৪ এএম

উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে তরুণীদের বিদেশে পাচার চক্রের ৬ সদস্যকে  গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত করা চার তরুণীকে উদ্ধার করেছে তারা। গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো মোড়ের শাহ চন্দপুরী  রেস্টুরেন্টে চার তরুণীসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্কোয়াড্রন লিডার মো. রেজাউল হক এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, এই পাচারকারী চক্রটি ১৫-২৫ বছর বয়সী তরুণীদের চাকরির পªলোভন দেখিয়ে বিদেশের বিভিন্ন ড্যান্স বারে পাচার করত। সেখানে তাদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হতো।

গ্রেপ্তাররা হলেন তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট সিদ্ধিরগঞ্জের মো. আক্তার হোসেন (৪০), ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার বাসিন্দা মো. অনিক হোসেন (৩১), দুবাইয়ের ড্যান্স ক্লাবের মালিক নোয়াখালীর চাটখিলের মো. মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০), আরেক মালিক কুমিল্লার চান্দিনার আব্দুল হান্নান (৫২), চাঁদপুরের কচুয়ার  মো. আফতাউল ইসলাম। তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ও মাদারীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আকাশকে (২৯) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ৭০টি পাসপোর্ট, ২০০টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমান টিকিট, ৫০টি টু¨রিস্ট ভিসার ফটোকপি, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর ও ১টি বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাসপোর্টগুলো বিভিন্ন বয়সী তরুণীদের নামে ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল হক জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা ১৫-২৫ বছর বয়সী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির পªলোভন দেখিয়ে পাচার করে থাকে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে পঞ্চাশের অধিক এজেন্ট, ২০ জনের অধিক পাসপোর্টের দালাল, ২৫ জনের অধিক ড্যান্স বারের মালিক, ৭ এর অধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও যুক্ত আছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পªাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত টার্গেট করে থাকে নিমœবিত্ত পরিবারের, পোশাক শিল্পের, ব্রোকেন ফ্যামিলির তরুণীদের। টার্গেট করার পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যান্স বারের মালিককে পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক বা তার প্রেরিত পªতিনিধি সরাসরি উক্ত তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্টে, হোটেল বা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে থাকে। চ‚ড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট উক্ত নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের মাধ্যমে টু¨রিস্ট ভিসা ম্যানেজ করে ও এয়ারপোর্টের বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এসব তরুণীকে মালয়েশিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে। এই তরুণীরা বিদেশে পৌঁছা মাত্র এয়ারপোর্ট থেকে উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখে। পাচার করা তরুণীদের ড্যান্স বারগুলোতে স্বল্পবসনে আর সাজসজ্জায় বসিয়ে রাখা হয় এবং মধ্যযুগীয় কায়দায় খদ্দরের পছন্দ অনুযায়ী রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে ৩টা পর্যন্ত নাচ ও যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত