রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই : রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৮ এএম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের কথিত বিশ্বাসের ঘাটতি দূর করতে মোবাইল ফোনে সংযুক্তির নতুন ফর্মুলা তুলে ধরেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কৌশল সন্ধান’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে চীন। কিন্তু সেমিনারে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে চীন। এ ইস্যুতে চীন সক্রিয় এবং উদ্বিগ্ন। আমরা এমন একটি সমাধান চাই যাতে দুপক্ষই লাভবান হবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সার্বভৌম দেশ। তাই এ নিয়ে কোনো দেশের ওপরই চাপ প্রয়োগ করতে পারে না পেইচিং।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে চীন। তাদের কীভাবে মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন করানো যায় এবং তা যেন টেকসই হয় সে ব্যাপারে চীন যথেষ্ট আন্তরিক। শেখ হাসিনার চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুই বছর ধরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের কথিত বিশ্বাসের ঘাটতি মোকাবিলায় ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান প্লাস টু আইডিয়া’ তুলে ধরেন চীনা রাষ্ট্রদূত। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবার এমন একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবে, যে কি না মিয়ানমারে ফিরে যাবে। চীন তাদের দুটি মোবাইল ফোন দেবে। একটি ওই প্রতিনিধির কাছে থাকবে, আরেকটি থাকবে কক্সবাজারে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে। প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে গিয়ে যা দেখবেন, তা জানাবেন শরণার্থী শিবিরে থাকা তার স্বজনদের। মিয়ানমারে তারা স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখবে, রাখাইনের পরিস্থিতি ভালো ও নিরাপদ কি না তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। সেই আলোকে তারা দেখবে, সামনে এগোনো যাবে কি না। এ প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা মিয়ানমার সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে এমন কথা চালু আছে, চীন যা বলে মিয়ানমার সেই অনুযায়ী কাজ করে। এছাড়া অর্থনৈতিক কারণে চীন বোধহয় সবসময় মিয়ানমারের পক্ষে থাকছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল।’

সেমিনারে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের স্থানীয় প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, ‘আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অবর্ণনীয় শরণার্থী শিবির দেখিনি, যেটি দেখেছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে। বাধ্য হয়েই তারা সেখানে বসবাস করছে। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের শতকরা ৯৭ জনই স্বদেশে ফিরে যেতে চান। তবে এর জন্য তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চান।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশেস্নষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সাবিনা ইয়াসমিন সিদ্দিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত