জয়ের হস্তক্ষেপ

আন্তর্জাতিক কার্ডে লেনদেনে আগাম অনুমতি নয়

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৯ এএম

আন্তর্জাতিক কার্ডের (ক্রেডিট ও ডেবিট) লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার নতুন এক সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ইন্টারন্যাশনাল কার্ড ব্যবহারকারীদের আগে থেকে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে খরচের আগাম তথ্য ব্যাংককে জানাতে হবে না। তবে অবৈধ কোনো কাজে লেনদেন করা হলে ব্যাংক ওই কার্ড ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এর আগে ১৪ নভেম্বর এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক কার্ডে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ফরমে ব্যাংককে আগাম জানাতে হবে। তবে গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে গ্রাহককে কোনো তথ্য জানাতে হবে না। তবে ‘অবৈধ লেনদেন’ বন্ধে ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে ক্যাসিনো, জুয়া খেলা, ফরেক্স ট্রেডিং, বিদেশি শেয়ারবাজারে লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিদেশি লটারি কেনা ও বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য কেনার মতো ঘটনা না ঘটে।

আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৪ নভেম্বর সার্কুলার জারি করলে কঠোর সমালোচনা করেন দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। তারা জানান, এতে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নজরে এলে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তিনি।

এরপর গত শনিবার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, শিগগির এ কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নজরে এসেছে। তিনি এর দ্রুত সমাধান চেয়েছেন। ফ্রিল্যান্সারদের কল্যাণে এবং আইটি সেক্টরের প্রসারে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।’

ক্রেডিট ও ডেবিট উভয় ধরনের কার্ডই আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। তবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারই বেশি। আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহক একটি লেনদেনে কোনো পণ্য বা সেবামূল্যের ড়্গেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, অনলাইনে পণ্য কেনাকাটার নামে এই সুযোগের অপব্যবহার করছেন অনেকেই। অনেকেই দেশের বাজারে পণ্য কিনে বা সেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক কার্ড থেকে তার মূল্য পরিশোধ করছেন, যা আইনত ঠিক নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এ ধরনের লেনদেন যেসব প্রতিষ্ঠান করছে তারা সরাসরি টাকা পাচার করছে। এছাড়া অনেকে অনলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা, জুয়া ও লটারিতে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে অনলাইনে বিদেশি পণ্য বা সেবা কিনতে হলে গ্রাহককে অনলাইন ট্রানজেকশন অথরাইজেশন ফরম (ওটিএএফ) পূরণ করে মোবাইল অ্যাপ বা ইন্টারনেট প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে বা হার্ড কপি ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তবে এ নিয়ম ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে দাবি আইটি ফার্মগুলোর। এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি বৈঠক হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ন কবীর, বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, সহসভাপতি শোয়েব আহমেদ মাসুদ, মুশফিকুর রহমান এবং ১১টি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নতুন সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য ও সেবার মূল্য বিদেশে পাঠানো যাবে। এ ড়্গেত্রে অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও লটারির টিকিট কেনার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য গ্রাহকের কেওয়াইসি, মানি লন্ডারিং নীতিমালা পরিপালন এবং কর-শুল্ক পরিশোধ নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এই সার্কুলারের ফলে গ্রাহককে কোনো অনুমোদন নিতে হবে না।

বেসিস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাহকদের ভোগান্তিতে না ফেলে কীভাবে অনলাইনে অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহককে আর অনুমোদন নিতে হবে না। যে পাঁচটি গেটওয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয় ওই গেটওয়েগুলোতে অনলাইন ক্যাসিনো, জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইটের কোড ব্লক করা থাকবে। কেউ চাইলেই ব্লক থাকা সাইটে অর্থ পাঠাতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত